এই দিন

বুধবার   ২১ অক্টোবর ২০২০   কার্তিক ৬ ১৪২৭   ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৩৮১

জীবনের ম্যাপ কোরআন

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২০  

জীবনের আরবি প্রতিশব্দ হায়াত। মৃত্যু নামক নিশ্চিত শব্দটি ক্ষণস্থায়ী হায়াত বা পার্থিব জীবনের অবসান ঘটায়।

সূরা আলে ইমরানের ১৮৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, সব প্রাণীকেই মৃত্যু সুধা পান করতে হবে। ফুরিয়ে যাবে ক্ষণস্থায়ী জীবন প্রদীপের তেল; শুরু হবে পরকালীন স্থায়ী অনন্ত জীবন। যে জীবনে কোরআনিক ম্যাপে পরিচালিত জীবনই সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে।

সূরা আহজাবের ৭১ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহ ও তার রাসূল (সা.)-এর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্য পোষণ করে জীবন পরিচালনাকারীকে আল্লাহ মহাসফলতা দেবেন।

আল্লাহতায়ালা মাখলুককে জীবন দিয়েছেন; তবে মানবজাতিকে দিয়েছেন ভিন্ন এক উদ্দেশ্যে। কোরআনুল কারিমে বলেছেন, আমি মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।

আরেক আয়াতে বলেন, আমি সর্বাধিক উত্তম আমলকারীকে বাছাই করার জন্য মানবজাতিকে মিশ্রিত শুক্র পদার্থ দিয়ে সৃষ্টি করেছি। আর এ জন্য তাদের আমি করেছি শ্রুতিধর ও চক্ষুষ্মান। (সূরা দাহর : ০২)

কোরআনুল কারিম হল পরকালে সুখের উপকরণ প্রস্তুতির জন্য মানবজাতির ম্যাপ বা মানচিত্র। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, আমি কোরআনকে মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করে অবতীর্ণ করেছি। (২:১৫)

তিনি আরও বলেন, এ কোরআন এমন এক কিতাব যা মানবজাতিকে সুপ্রতিষ্ঠিত একটি পথ দেখাবে এবং নেক আমলকারী মুমিনদের মহাপ্রতিদানের সুসংবাদ দেবে। (১৭:০৯)

সমাজে আল্লাহর কোরআনকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরায় মোমিনদের জীবনে এসেছিল বন্ধু এবং ভাইয়ের হৃদ্যতা।

তাই সূরা আলে ইমরানের ১০৩ নম্বর আয়াতে কেয়ামত পর্যন্ত আগত বান্দাদের লক্ষ করে আল্লাহ বলেন, তোমরা আল্লাহর কোরআন রশিকে জীবনের সর্বাঙ্গে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধর, কখনও বিচ্ছিন্ন হয়ো না। কেননা এ ম্যাপের মাধ্যমেই তোমাদের পারস্পরিক দুশমনির সমাপ্তি হয়ে শান্তির বন্ধনে আপন ভাইয়ে পরিণত হয়েছ।

সহি বোখারির হাদিসেও আছে, রাসূল (সা.) বিদায় হজের ভাষণে ঘোষণা করেছেন, আজ আমার অন্তিম মুহূর্তে তোমাদের কাছে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি যতক্ষণ তোমরা এ দুটি বিষয়কে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে রাখলে পদচ্যুত হবে না দুটির একটি হল- কোরআন অপরটি হল- রাসূল (সা.)-এর জীবনাদর্শ।

মুসলিম জীবনে কোরআনের ভূমিকা অসামান্য। একটি রাষ্ট্রের শৃঙ্খলার মূল ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা। যার ফলে সে রাষ্ট্র হয় খুন, রাহাজানি, ধর্ষণ, জুলুম, লোটতরাজ, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি এবং সব অন্যায়-দুর্নীতিমুক্ত। এ জন্য কোরআন ইনসাফের তাগিদ করে সূরা মায়েদার ৮ নম্বর আয়াতে আদেশ দিচ্ছেন, তোমরা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা কর; কেননা তাকওয়া অর্জনে তা খুবই নিকটবর্তী। সূরা মায়েদার ৪৫ নম্বর আয়াতে যারা কোরআনের বিধান মতো রাষ্ট্র পরিচালনা করে না তাদের জালেম, ফাসেক এবং কাফের হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

আগমন মানবতার মুক্তি ও কল্যাণের জন্য কোরআন। মানবজাতিকে চূড়ান্ত সফলতায় পৌঁছাতে কেয়ামত পর্যন্ত সমকালীন জীবন পরিচালনায় কোরআন যথেষ্ট ভূমিকা রেখে পরকালীন জীবনের শান্তির নীড় নির্ধারণ করে একটি সহজ ও সরল ম্যাপ তথা মানচিত্রের ভূমিকা দিয়েছে।

তবে যারা ম্যাপের বাউন্ডারি অতিক্রম করবে তারাই বিপথগামী হয়ে চির অশান্তির জাহান্নামে জায়গা পাবে। আর যারা কোরআনের বিধান ম্যাপকে ফলো করবে তারা আল্লাহর মনোনীত ফেরেশতাদের উষ্ণ অভ্যর্থনায় জান্নাতুল ফেরদাউসে আনন্দে মেতে উঠবে।

এই বিভাগের আরো খবর