বৃহস্পতিবার   ২৯ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ১৬ ১৪৩২   ১০ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৫

বিদেশি ঋণ নির্ভরতা: আগামী সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

তরুণকণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬  

 

চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে বিদেশি ঋণ পরিশোধে বাংলাদেশের ব্যয় বেড়েছে ১০.৭৬ শতাংশ। বিপরীতে, উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো থেকে প্রতিশ্রুত ঋণ ছাড় কমে ২৯ শতাংশ এবং ঋণ-সহায়তার প্রতিশ্রুতি কমেছে ১৩.৪২ শতাংশ। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আগামী সরকারের সামনে এগুলো বাস্তবমুখী পরিকল্পনা নেওয়ার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

 

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে ডিসেম্বরে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ বাবদ বাংলাদেশ ২১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। এর মধ্যে ১৪২ কোটি ৫৩ লাখ ডলার মূল ঋণ পরিশোধে এবং ৭৬ কোটি ৯৬ লাখ ডলার সুদ বাবদ খরচ হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে বিদেশি ঋণ পরিশোধে ব্যয় বেড়েছে, কিন্তু ঋণ ছাড়ের পরিমাণ কমেছে। এ সময়ে ২৪৯ কোটি ৯৭ লাখ ডলারের ঋণ ও অনুদান দিয়েছে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯ শতাংশ কম।

 

তদুপরি, বিদেশি ঋণ ও সহায়তার নতুন প্রতিশ্রুতিও কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যেখানে ২২৯ কোটি ৮৬ লাখ ডলারের প্রতিশ্রুতি ছিল, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে তা নেমেছে ১৯৯ কোটি ডলারে।

 

অর্থনীতি বিশ্লেষক মো. মাজেদুল হক বলেন, “মেগা ও উন্নয়ন প্রকল্পসহ সব ধরনের প্রকল্প এখন বৈদেশিক ঋণ নির্ভর হয়ে পড়েছে। রাজস্ব আয় তেমন নেই, সরকার ঋণ করে পরিচালন ব্যয় চালাচ্ছে। যে হারে ঋণ-জিডিপি অনুপাত বাড়ছে, সেই হারে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ছে না। রফতানি আয়ও বাড়ছে না। সামনে ঋণের অর্থ পরিশোধ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে, যা ঋণের ফাঁদে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।”

 

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে খাদ্য সহায়তার জন্য মাত্র ২ কোটি ৫ লাখ ডলার অর্থ ছাড় হয়েছে, কিন্তু নতুন কোনো ঋণ বা সহায়তার প্রতিশ্রুতি মেলেনি।

এই বিভাগের আরো খবর