সোমবার   ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ৪ ১৪৩২   ২৮ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৬

১৮ ফেব্রুয়ারি না কি ১৯? রমজান শুরুর তারিখ নিয়ে ধোঁয়াশা

রাফিউল ইসলাম তালুকদার

প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

চাঁদ দেখা নিয়ে আবারও মতভেদ

চাঁদ দেখা নিয়ে আবারও মতভেদ

 

প্রতিবছর হিজরি সনের নবম মাস তথা রমজান আসার আগে সারা বিশ্বের মুসলিমদের নজর থাকে আকাশের দিকে। তবে ২০২৬ সালেও (হিজরি ১৪৪৭) সেই চিরাচরিত বিতর্কের অবসান ঘটছে না। একদিকে সৌদি আরবের দাপ্তরিক ‘উম্ম আল-কুরা’ ক্যালেন্ডার বলছে রোজা শুরু বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি), অন্যদিকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দিচ্ছেন ভিন্ন আভাস।

 

সংঘাতের মূলে যা আছে আরব আমিরাতের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে নতুন চাঁদের দেখা পাওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনা নেই। আর এখানেই তৈরি হয়েছে মূল জটিলতা। ইসলামি বিধান অনুযায়ী মাস শুরুর জন্য ‘চাঁদ দেখা’ শর্ত হলেও, সৌদি আরবের প্রশাসনিক ক্যালেন্ডার অনেক সময় গাণিতিক হিসাবের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়।

 

পুরানো বিতর্ক ও সৌদির ‘অস্পষ্ট’ প্রমাণ গত কয়েক বছর ধরেই সৌদি আরবের চাঁদ দেখার ঘোষণা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের ঘটনাগুলো এই বিতর্ককে উসকে দিয়েছে। ২০২৩ সালের ঈদুল ফিতরের সময় কুয়েতের প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদ আব্দেল আল-সাদুন সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছিলেন যে, সেই সময় আরব উপদ্বীপে চাঁদ দেখা অসম্ভব।

 

সে সময় বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয় যখন সৌদি কর্তৃপক্ষ ২১ এপ্রিল ঈদ ঘোষণা করলেও কোনো দাপ্তরিক ছবি দেখাতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে সৌদি জ্যোতির্বিদ মুলহাম আল-হিন্দি একটি সিসিডি ক্যামেরায় তোলা ‘অনুজ্জ্বল চাঁদের’ ছবি প্রকাশ করে সেটিকে প্রমাণ হিসেবে দাবি করেন, যা বিশেষজ্ঞদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি।

 

বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ নিউ ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ইমাদ আহমেদের মতে, এই সংকটের কারণ পদ্ধতিগত পার্থক্য। তিনি মনে করেন, সৌদি আরব অনেক ক্ষেত্রেই তাদের দাপ্তরিক ক্যালেন্ডারের সাথে মিল রাখতে গিয়ে চাঁদ দেখার ঘোষণা দেয়, যা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

 

সৌদির এই অসামজস্যের সমালোচনায় তুরস্কের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন,

তারা সরাসরি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনার ওপর নির্ভর করে এবং সেটি খোলাখুলি স্বীকার করে।  অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য নিজস্ব কেন্দ্রীয় কমিটি না থাকায় তারা দ্বিধাবিভক্ত; একদল স্থানীয় বিজ্ঞান মানে, অন্যদল সৌদি আরবের ওপর নির্ভরশীল।

 

শেষ কথা মূলত ‘খালি চোখে দেখা’ বনাম ‘কম্পিউটারাইজড ক্যালেন্ডার’, এই দুই মতাদর্শের পার্থক্যের কারণেই প্রতিবছর রমজান ও ঈদের ইবাদতের তারিখ নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। বিজ্ঞান আর ঐতিহ্যের এই লড়াইয়ে এবারও হয়তো ভিন্ন ভিন্ন দিনে রোজা বা ঈদ পালনের পথে হাঁটবে মুসলিম বিশ্ব।