ঝালকাঠি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৪ ঘন্টা আগে, ০৬:৫৮ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

১৪ বছর পর আদালতে হাজির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

তৎকালীন পিপি এডভোকেট হায়দার হোসাইন।

ঝালকাঠির আলোচিত জেলা জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট হায়দার হোসেন হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বেল্লাল হোসেন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। সোমবার (২ নভেম্বর) ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণের পর আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তাঁর এই আত্মসমর্পণের ঘটনায় মামলাটি আবারও আলোচনায় এসেছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল রাতে এশার নামাজ শেষে ঝালকাঠি গোরস্থান মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন অ্যাডভোকেট হায়দার হোসেন। তিনি ঝালকাঠির দুই বিচারক হত্যা মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ছিলেন। এ ঘটনায় পরদিন নিহতের ছেলে মো. তারেক ইবনে হায়দার বাদী হয়ে ঝালকাঠি থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আব্দুল হালিম পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—মুরাদ হোসেন, আবু শাহাদাত মো. তানভীর ওরফে মেহেদি, আমিনুল ওরফে আমির হোসেন, মো. বিল্লাল (বেল্লাল) হোসেন ও সমীর হোসেন ভূঁইয়া। তাঁদের মধ্যে বিল্লাল হোসেন দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।

পরবর্তী সময়ে মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের শুনানি শেষে ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকার ও বিচারপতি শাহেদ নুরুদ্দীনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বেল্লাল হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আক্কাস শিকদার।

দীর্ঘ ১৯ বছর আগে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামির আদালতে আত্মসমর্পণ মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন গুরুত্ব তৈরি করেছে।

মন্তব্য করুন