প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ০৫:৪৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে আরও তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। চার দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তাকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে এ আদেশ দেন ঢাকার মহানগর হাকিম মো. হাসান শাহাদাত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আগের চার দিনের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর তিনি কৌশলে এড়িয়ে গেছেন এবং নীরবতা পালন করেছেন। তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানিয়েছেন, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। পরে তাহসিফ, দীপ ও মামলার আরেক সন্দেহভাজন আসামি জেরিকা তাসনিম দিশা (১৯) বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করেন। একপর্যায়ে দিশা বাসায় ফিরে যান।
দীপের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তাহসিফ ও তিনি টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় পৌঁছান। পরে তুরাগ নদীর তীরবর্তী একটি মাঠে যাওয়ার পর কয়েকজন লোককে দেখতে পেয়ে তারা আলাদা হয়ে যান।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার আগে তাহসিফকে দীপ ও দিশার সঙ্গে বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় দেখা গেছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে সর্বশেষ তাদের সঙ্গেই তাহসিফকে দেখা গিয়েছিল। হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দীপকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনে পুলিশ আটটি কারণ উল্লেখ করে। এর মধ্যে রয়েছে সংগৃহীত প্রাসঙ্গিক নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ দীপকে দেখিয়ে তার উপস্থিতি যাচাই ও বিশ্লেষণ করা, উত্তরার নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় তাহসিফের সঙ্গে অবস্থানকালে দীপ ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য কোথায় যোগাযোগ করেছিলেন, তা অনুসন্ধান করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মুঠোফোনের কলের বিবরণী সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা।
এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন, অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, আলামত উদ্ধার, হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণের কথা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের নেস্ট রেস্তোরাঁ অ্যান্ড বারে তাহসিফ ও তার বান্ধবী প্রবেশ করেন। তারা একটি মোটরসাইকেলে সেখানে যান। কিছুক্ষণ পর আরেকটি মোটরসাইকেলে সেখানে পৌঁছান দীপ।
পরে তিনজনই রেস্তোরাঁর ভেতরে প্রবেশ করেন। অন্য একটি নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, তাহসিফ ও তার বান্ধবী লিফটের সামনে দীপের জন্য অপেক্ষা করছেন। হেলমেট পরা অবস্থায় দীপ সেখানে পৌঁছালে তিনজন একসঙ্গে বারের লিফটে ওঠেন।
প্রায় দেড় ঘণ্টা সেখানে অবস্থানের পর তারা মোটরসাইকেলে করে বেরিয়ে যান। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, পরে তাহসিফের বান্ধবীকে তার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর তাহসিফ ও দীপ টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যান।
তদন্তকারীরা ওই রাতের গতিবিধি, যাতায়াত এবং বিভিন্ন স্থানে তাহসিফের অবস্থানের তথ্য সংগ্রহ করছেন। তবে এ বিষয়ে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম ৩১ অক্টোবর উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। পরে তাহসিফের বন্ধু দীপকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
মামলাটির তদন্ত করছে নৌ-পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত এবং কী কারণে তাহসিফকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো তদন্তাধীন।
মন্তব্য করুন