প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৩:৪৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দীর্ঘ দশ মাসের চিকিৎসা ও শারীরিক সংকট কাটিয়ে আবারও শুটিংয়ে ফিরেছেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। মস্তিষ্কে টিউমার, একাধিক অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি ও লাইফ সাপোর্টে থাকার কঠিন সময় পেরিয়ে ইকসান রনির পরিচালনায় ‘অংশীদার’ নাটকের মাধ্যমে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন তিনি। শুটিংয়ে ফেরার অনুভূতিকে নিজের ‘দ্বিতীয় জন্ম’ বলে উল্লেখ করেছেন অভিনেত্রী।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অসুস্থতা, দীর্ঘ চিকিৎসা এবং কাজে ফেরার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন তানিয়া বৃষ্টি। তিনি জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে একটি নাটকের শুটিং চলাকালে হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয় তাঁর। প্রথম চার দিন ব্যথা উপেক্ষা করেই কাজ চালিয়ে যান। তবে পঞ্চম দিনে প্রচণ্ড বমি শুরু হলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে।
প্রথমে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার আশা থাকলেও চেন্নাইয়ের এমজিএম হাসপাতালের একজন ক্যানসার বিশেষজ্ঞ তাঁর আয়ুষ্কাল নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসকের কাছ থেকে এমন আশঙ্কার কথা শুনে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন অভিনেত্রী।
ঢাকায় প্রথম অস্ত্রোপচারের আগে পরিবার ও সহকর্মীদের কাছে বিদায়ের মতো কথাও বলেছিলেন তিনি। পরে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের পর তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে লাইফ সাপোর্টে রাখতে হয়। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে জ্ঞান ফেরার পর মা ও বোনের উপস্থিতি তাঁকে বেঁচে থাকার সাহস জুগিয়েছিল বলে জানান তানিয়া।
বাবা না থাকায় অসুস্থতার পুরো সময়ে মায়ের রাতজাগা সেবা ও পরিবারের প্রার্থনা তাঁকে সাহস জুগিয়েছে। এ ছাড়া অভিনেতা মোশাররফ করিম, নিলয় এবং প্রযোজক আলী বশীরসহ নাট্যাঙ্গনের অনেকেই নিয়মিত তাঁর খোঁজখবর নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
বর্তমানে আগের চেয়ে শারীরিকভাবে অনেকটা স্থিতিশীল রয়েছেন তানিয়া বৃষ্টি। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর কেমোথেরাপির আরও দুই মাসের কোর্স বাকি রয়েছে। দীর্ঘদিন ঘরে বন্দি থাকায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন তিনি। এ কারণে অনেক অনুরোধের পর একটি নাটকে অভিনয়ের অনুমতি পান।
‘অংশীদার’ নাটকে ‘সুমি’ চরিত্রে অভিনয় করছেন তানিয়া। নাটকটির গল্পে পারিবারিক সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। বাবার মৃত্যুর পর চাচার সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে তাঁর অভিনীত চরিত্রটি।
শুটিংয়ের প্রথম দিনে পরিচালক, ক্যামেরাম্যান ও প্রযোজনা দলের সদস্যরা তাঁর স্বাস্থ্যের বিষয়ে বিশেষ যত্ন নিয়েছেন বলে জানান অভিনেত্রী। দীর্ঘ দশ মাস পর পরিচিত শুটিংয়ের পরিবেশে ফিরে সহকর্মীদের পরিবারের মতো মনে হয়েছে তাঁর। শুটিংয়ের জায়গাটিকে মানসিক শান্তির বড় আশ্রয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অসুস্থতার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মৃত্যু নিয়ে গুজবও ছড়িয়েছিল। তবে সেসব নেতিবাচক অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে এখন জীবনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন তানিয়া।
ক্যানসারসহ জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের উদ্দেশে অভিনেত্রীর বার্তা, রোগের নাম শুনে মনোবল হারানো যাবে না। তাঁর মতে, মানসিক দৃঢ়তা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা এবং পরিবারের সঙ্গে ইতিবাচক সময় কাটানো এ ধরনের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মন্তব্য করুন