প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ১০:২০ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে পাঁচটি কঠোর শর্তারোপ করেছে হিজবুল্লাহ। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে এক ভিডিও বার্তায় হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাইম কাশেম এই শর্তগুলো ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, বর্তমান ১০ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি কোনো স্থায়ী সমাধান নয় এবং হিজবুল্লাহ শত্রুর ওপর কোনোভাবেই ভরসা করছে না।
শেখ নাইম কাশেম তাঁর বক্তব্যে দক্ষিণ লেবাননে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের ‘অপ্রতিরোধ্য’ ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সীমান্তে প্রায় এক লাখ ইসরাইলি সেনা মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও তারা যে বীরত্ব প্রদর্শন করেছে, তারই ফলশ্রুতিতে এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। এই সময় তিনি হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে স্থায়ী শান্তির জন্য নিম্নলিখিত শর্তসমূহ তুলে ধরেন:
১. স্থায়ী আগ্রাসন বন্ধ: আকাশ, স্থল ও সমুদ্র—সব পথেই লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরাইলি হামলা ও আগ্রাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।
২. সেনা প্রত্যাহার: লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে আন্তর্জাতিক সীমান্ত রেখায় ফিরিয়ে নিতে হবে।
৩. বন্দি মুক্তি: ইসরাইলের হাতে বন্দি লেবাননি নাগরিকদের অবিলম্বে মুক্তি প্রদান করতে হবে।
৪. বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবর্তন: যুদ্ধ ও আগ্রাসনের কারণে যারা ঘরবাড়ি ছেড়েছেন, সেই সীমান্তবাসীদের সসম্মানে ও নিরাপদে নিজ গ্রামে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
৫. পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক সহায়তা: জাতীয় সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে আন্তর্জাতিক ও আরব বিশ্বের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর পুনর্গঠন কার্যক্রম দ্রুত শুরু করতে হবে।
শেখ নাইম কাশেম ইরান ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা ‘ট্রিগারে আঙুল’ রেখে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং ইসরাইল যদি কোনোভাবে এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে, তবে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। হিজবুল্লাহ মহাসচিব আরও উল্লেখ করেন যে, জাতীয় সার্বভৌমত্ব সুসংহত করতে তারা লেবানন সরকারের সঙ্গে একটি নতুন কাঠামোর আওতায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যস্থতায় গত বৃহস্পতিবার থেকে ইসরাইল ও লেবানন ১০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এই পাঁচ শর্ত প্রদান এখন স্থায়ী শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন