লাকসাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২ ঘন্টা আগে, ০২:৩৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

লাকসামে অবৈধ ইটভাটার প্রভাবে ধ্বংস হচ্ছে কৃষিজমি

ছবি: তরুণ কণ্ঠ

কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলের বৃহত্তর লাকসাম উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র গড়ে উঠা প্রায় অর্ধশতাধিক ইটভাটা গিলে খাচ্ছে কয়েক হাজার একর আবাদি কৃষি জমি। এছাড়া ওইসব ইটভাটার কালো ধোয়া ও বায়ুদূষণে এ অঞ্চলের পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। এ ইটভাটার আগুনে পুড়ছে কৃষকের কয়েক হাজার একর ফসলি জমি। বার্ষিক সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিলেও ইটভাটা মালিকদের পকেট ভারী হচ্ছে প্রতিনিয়ত। স্থানীয় প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান চালালেও রহস্যজনক কারণে আবারও সেই পুরনো অবস্থায় চলছে ইটভাটা।

জেলা দক্ষিনাঞ্চলের সবগুলো উপজেলায় ইটভাটার মাটি কেটে ধ্বংস হচ্ছে কাঁচা-পাকা সড়ক। বিশেষ করে সন্ধ্যা নামলেই প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে পুরো দক্ষিনাঞ্চল জুড়ে ভেগু, ট্রাক্টর, পিকআপসহ বিভিন্ন পরিবহনযোগে কৃষিজমির মাটি কেটে নিচ্ছে ভূমি দস্যুরা। এ ব্যাপারে প্রশাসনগুলো যেন নীরব দর্শক।

জানা যায়, লাকসামে ৬টি, মনোহরগঞ্জে ৬টি, নাঙ্গলকোটে ১৯টি, বরুড়ায় ৯টি ও সদর দক্ষিনে ১১টি ইটভাটায় সরকারি বিধি-বিধান না মেনে পুরোদমে ইট তৈরি করছেন ভাটার মালিকরা। ইটভাটা স্থাপনে পরিবেশ, বনবিভাগ ও কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী হাইব্রিড হফম্যান, জিগ-জ্যাগ, ভার্টিক্যাল শ্যাফট কিলন কিংবা বিএসটিআই পরীক্ষিত নতুন প্রযুক্তির এলাকায় পরিবেশবান্ধবসহ সরকারি অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমতি প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর বার্ষিক হালনাগাদ ছাড়পত্র কিংবা প্রত্যায়নপত্র না নিয়েই ইটভাটাগুলো বিনা বাধায় অবাধে ইট উৎপাদন করে চলেছে।

গত বছরের চেয়ে বর্তমানে ইটের বাজারমূল্য ঊর্ধ্বমুখী। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি এবং রহস্যজনক কারণে ইটের মূল্য বৃদ্ধির অন্তরালে তদন্ত চালালে অনেক অজানা রহস্য বের হয়ে আসবে বলে অভিমত এলাকাবাসীর। এছাড়া সবগুলো ইটভাটায় শিশু শ্রম বাড়ছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, সরকারি নীতিমালা অমান্য করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই গায়ের জোরে নিজেদের খেয়ালখুশি মত ইটভাটা স্থাপন করে ইট পুড়িয়ে এ অবৈধ ব্যবসা চালাচ্ছে ভাটার মালিকরা। ইটভাটার বিরুদ্ধে বিভাগীয় পরিবেশ দপ্তর মাঝে মধ্যে ২/১টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলেও স্থানীয় প্রশাসন কোনো ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি। অথচ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ১২ ও ৪ এর ২/৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আবাদি কৃষি জমি, পরিবেশ সংকটাপন্ন ও জনবসতি এলাকা, পাকা সড়ক এবং আশেপাশে ইটভাটা স্থাপন করা দণ্ডনীয় অপরাধ।

আবার ২/১টি ছাড়া অনেকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ইট তৈরীর উন্নত ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞানসহ পরীক্ষিত কোনো সরঞ্জাম নেই বললেই চলে। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ এলাকা থেকে কমপক্ষে ১ কিঃমিঃ ও এলজিইডি নির্মিত সড়কের আধা কিঃমিঃ-এর মধ্যে কোনো ইটভাটা হতে পারবে না। বিশেষ করে নিষিদ্ধ এলাকায় যেমন আবাসিক, সংরক্ষিত ও বাণিজ্যিক এলাকা, পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা, কৃষি আবাদি জমি, বন ও বাগানকে বুঝানো হয়েছে।

এ বিষয়ে নাম জানাতে অনিচ্ছুক একাধিক ইটভাটা মালিক দম্ভোক্তির সুরে জানায়, আমরা নিয়ম মাফিকভাবে এবং স্থানীয় প্রশাসনসহ বিশেষ বিশেষ মহলকে ম্যানেজ করে ইটভাটা চালাচ্ছি। এছাড়া বিশেষ বিশেষ জাতীয় দিবসগুলোতে স্থানীয় প্রশাসনকে মোটাঅংকের টাকা দিতে হয়। আপনারা সাংবাদিক সবকিছুই বুঝেন, এ দেশে টাকা হলে সবকিছু সম্ভব। পত্রিকায় লেখালেখি করলে কিছুই হবে না। নীচতলা থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উপর তলা পর্যন্ত আমাদের ঠিক রাখা আছে।

মন্তব্য করুন