তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৭:২৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

যুদ্ধ কখন এবং কিভাবে শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে ইরান: আব্বাস আরাগচি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সূচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি প্রশাসন। তবে যুদ্ধ কখন এবং কীভাবে শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে ইরানই।

আরাগচি রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্টে বলেন,

"গত দুই দশকে ইরানের পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যর্থতাগুলো তেহরান গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছে এবং সেখান থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা নিয়েছে।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন,

"তেহরানে বোমাবর্ষণ ইরানের যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতাকে দুর্বল করতে পারবে না। ডিসেন্ট্রালাইজড মোজাইক ডিফেন্স কাঠামো আমাদের সেই সক্ষমতা দিয়েছে, যার মাধ্যমে যুদ্ধের সময় ও পরিণতি নির্ধারণ করবে ইরানই।"

উল্লেখ্য, ওমানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনার মধ্যেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এতে ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, একাধিক জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার এবং শত শত বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। জবাবে ইরান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস–৪’ শুরু করেছে। এই অভিযানে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরাইলের লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।

লন্ডনের কিংস কলেজ এর প্রতিরক্ষা অধ্যয়ন বিভাগের প্রভাষক রব গাইস্ট পিনফোল্ডের বিশ্লেষণ ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে হামলার লক্ষ্য করছে। তিনি বলেন,

"ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে বেছে নিচ্ছে, কারণ তাদের ওপর আঘাত হানা সহজ। ইসরায়েলের তুলনায় তারা দুর্বল লক্ষ্য। আবার এসব দেশের এই যুদ্ধে সরাসরি আগ্রহও কম, কারণ এটি মূলত তাদের যুদ্ধ নয়।"

তিনি আরও বলেন, ইরানের কৌশল হল, উপসাগরীয় দেশগুলো দ্রুত যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান নেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। তবে এখন পর্যন্ত তা স্পষ্ট দেখা যায়নি।

পিনফোল্ডের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো প্রকাশ্যে ঐক্য ও শক্ত অবস্থানের বার্তা দিচ্ছে, কিন্তু পর্দার আড়ালে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তিনি সতর্ক করেন, কিছু রাষ্ট্র সামরিক প্রতিক্রিয়ার জন্য চাপ দিতে পারে, কিন্তু সরাসরি জড়িয়ে পড়লে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার মতো হিসেবে ধরা হতে পারে।

"দীর্ঘদিন ধরে অনুসৃত সূক্ষ্ম কূটনৈতিক ভারসাম্য এখন ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতীয় স্বার্থ তুলে ধরার সক্ষমতা প্রমাণ করা।

মন্তব্য করুন