প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০২:৩৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তার কাছে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা আছে। তাঁর ‘খুব ভালো পছন্দের’ এই তালিকায় আছে তিনটি নাম।
গতকাল রোববার ট্রাম্প এ কথা বলেন। ইরানের বর্তমান ধর্মীয় শাসকনেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আগের দিন শনিবার সকালে ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলায় ইরানে ৩৬ বছর ধরে নেতৃত্ব দেওয়া সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কর্মকর্তা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল দাবি করেন, ইরানে হামলায় দেশটি শীর্ষ পর্যায়ের ৪৮ জন নেতা নিহত হয়েছেন।ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের গতকাল প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, হামলায় খামেনি ছাড়াও তাঁর মেয়ে, জামাতা ও নাতি নিহত হয়েছেন।
ইরানের নিহত শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন খামেনির নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলী শামখানি, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল আবদুল রহিম মৌসাভি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ ও বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর।
গতকাল ট্রাম্প এ-ও বলেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছে। তিনি এতে রাজি হয়েছেন।দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নেতৃত্ব কে দিতে পারেন, সে ব্যাপারে তাঁর কাছে তিনটা খুব ভালো পছন্দের নাম আছে।
তবে ট্রাম্প নাম তিনটি প্রকাশ করেননি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি এখনই নামগুলো প্রকাশ করব না। আগে কাজটা শেষ হোক।”ইরানে এই হামলা দেশটির সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে বলে আগেই উল্লেখ করেন ট্রাম্প। সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়ে খামেনিসহ ইরানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের হত্যার বিষয়টি সে ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
তবে তা অতটাও সহজ হবে না বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
ইরান জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শহীদের পর শোকাতুর ইরান আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই তাদের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করতে পারে। আলজাজিরাকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি নিশ্চিত করেছেন যে সংবিধান অনুযায়ী উত্তরাধিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
বর্তমানে প্রেসিডেন্ট, বিচারবিভাগের প্রধান এবং অভিভাবক পরিষদের একজন ফকিহকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল সাময়িকভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছে। আরাগচি আশা প্রকাশ করেছেন যে বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস) অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থায়ী উত্তরসূরি বেছে নেবে।
ট্রাম্পের এই দাবি ইরানের বর্তমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য হামলা শুরু করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, নতুন নেতা নির্বাচন ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেছেন, আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন হতে পারে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, খামেনির মৃত্যুর পর সাত দিনের সরকারি ছুটি এবং ৪০ দিনের শোককাল ঘোষণা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে। আন্তর্জাতিক মহল যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ বাড়াচ্ছে।
মন্তব্য করুন