আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ ঘন্টা আগে, ১১:১২ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

পোপকে আক্রমণ করে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ‘ইরানকে পারমাণবিক বোমা বানাতে দেওয়া হবে না’

ইরান ইস্যু নিয়ে এবার সরাসরি ভ্যাটিকানের প্রধান পোপ লিও’র সঙ্গে বাকযুদ্ধে জড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১৫ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি কড়া ভাষায় বলেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প পোপ লিও-কে উদ্দেশ্য করে লেখেন, “কেউ কি দয়া করে পোপ লিওকে বলতে পারবেন যে, ইরান গত দুই মাসে অন্তত ৪২ হাজার নিরীহ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে? ইরানের হাতে পারমাণবিক বোমা থাকা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।” পোস্টের শেষে তিনি নিজের স্বভাবজাত ভঙ্গিতে লেখেন, “আমেরিকা ফিরে এসেছে!!!”

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং পোপের মধ্যে এই উত্তেজনা নতুন কিছু নয়। এর দুই দিন আগে ট্রাম্প পোপ লিও-কে ‘অপরাধ দমনে দুর্বল’ এবং ‘পররাষ্ট্রনীতিতে ভয়াবহ’ বলে আক্রমণ করেছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায় পোপ লিও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে ভয় পান না এবং যুদ্ধের ভয়াবহতার বিরুদ্ধে কথা বলা চালিয়ে যাবেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অবস্থানের কড়া সমালোচনা করে আসছিলেন পোপ।

বিক্ষোভকারীদের নিহতের সংখ্যা নিয়ে ট্রাম্পের দাবি করা ৪২ হাজার তথ্যের কোনো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইরান সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারির বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৩,১১৭ জন। প্রবাসী ইরানি গোষ্ঠীগুলোর মতে এই সংখ্যা প্রায় ৭,০০৭। অন্যদিকে, ইরানবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক মেই সোটো জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা অন্তত ৫ হাজার এবং এটি সর্বোচ্চ ২০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন হার্ডলাইন নিলেও আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ভিন্ন কথা বলছে। সংস্থাটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে—এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ তাদের কাছে নেই।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পোপের মতো প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতার সঙ্গে ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য বিরোধ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ‘সমুদ্র আধিপত্য’ ও ‘সরকার পরিবর্তনের’ ডাক দিচ্ছে, অন্যদিকে শান্তির আহ্বান জানিয়ে পোপ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যুদ্ধের বিরোধিতা করছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতি এখন চরম মেরুকরণের দিকে এগোচ্ছে।

মন্তব্য করুন