তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০২:৫৮ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ভূমি অফিসের দুর্নীতি দমনে কঠোর সরকার, দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধে ই-নামজারি বাধ্যতামূলক

উপজেলা ভূমি অফিসগুলোতে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রংপুর-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।

ভূমিমন্ত্রী জানান, ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা আনতে ই-নামজারি এবং অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবেদনের প্রতিটি ধাপ (নোটিশ জারি থেকে অনুমোদন পর্যন্ত) আবেদনকারীকে এসএমএস-এর মাধ্যমে জানানো হচ্ছে, যাতে মাঝপথে কেউ অবৈধ সুবিধা নিতে না পারে। এছাড়া ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাদের নগদ টাকা লেনদেনের সুযোগ বন্ধ করতে চালু করা হয়েছে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থা। এখন নাগরিকরা ঘরে বসেই বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে সরাসরি সরকারি কোষাগারে কর জমা দিতে পারছেন।

মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অনিয়ম রোধে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নিয়মিত আকস্মিক পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, দায়িত্ব অবহেলা বা কর্মস্থলে অনুপস্থিতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শোকজ এবং বিভাগীয় মামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভূমি অফিসে কেউ ঘুষ দাবি করলে বা হয়রানির শিকার হলে সরাসরি ১৬১২২ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী। এই হটলাইনটি সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা সচল থাকে এবং প্রাপ্ত অভিযোগগুলো সরাসরি মন্ত্রণালয় থেকে তদারকি করা হয়।

নকশা জালিয়াতি বন্ধে সরকার বর্তমানে ডিজিটাল সার্ভে-এর পাইলটিং পরিচালনা করছে। ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নিখুঁত ম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে, যা মানুষের হস্তক্ষেপ ও ভুলের সম্ভাবনা কমিয়ে আনবে। এছাড়া land.gov.bd পোর্টালের মাধ্যমে নাগরিকরা খতিয়ান দেখা ও ডাকযোগে পর্চা সংগ্রহের সুবিধা পাচ্ছেন।

ভূমিমন্ত্রী আরও জানান, ভূমি অধিগ্রহণ সিস্টেম এবং লিজ অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমসহ বিভিন্ন নতুন সফটওয়্যার তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। এসব কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে ভূমি খাতের দুর্নীতি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মন্তব্য করুন