প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ১০:৩৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ইসলামাবাদে প্রথম দফার ম্যারাথন বৈঠক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হওয়ার পর, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান ‘গভীর অনাস্থা’ দূর করাই এখন হোয়াইট হাউসের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলোচনার শুরু থেকেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের পূর্ণ অনাস্থার কথা জানিয়ে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বীকার করেছেন যে, দুই দেশের দীর্ঘদিনের এই বৈরিতা ও অবিশ্বাস রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়।
আগামী ২২ এপ্রিল বর্তমান দুই সপ্তাহের নাজুক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। সময় ফুরিয়ে আসার আগেই দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে বসার জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছে ওয়াশিংটন। যদিও তেহরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী বৈঠকে বসার বিষয়ে তাদের সম্মতি জানায়নি, তবে মার্কিন প্রশাসন দাবি করছে যে ইরান আলোচনায় আগ্রহী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পাকিস্তানে আবারও নতুন করে সংলাপ শুরু হতে পারে।
বর্তমান সংকটের সূত্রপাত হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে ইরানও আক্রমণ করলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিশেষ করে লেবাননে ব্যাপক হামলা, হতাহত ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই সংঘাতের মধ্যেই ইরানের বন্দরগুলোতে নতুন করে মার্কিন অবরোধ আরোপ করা হয়েছে, যা তেহরানকে আরও ক্ষুব্ধ করেছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মতে, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের যে ফাটল রয়েছে তা মেরামত করা একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরানকে ২০ বছরের জন্য পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে দূরে রাখতে, অন্যদিকে ইরান তাদের ওপর থেকে সব অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবিতে অনড়। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মাঝখানে আস্থার জায়গা তৈরি করাই এখন কূটনীতির মূল পরীক্ষা।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যদি দুই পক্ষ পুনরায় আলোচনার টেবিলে না বসে, তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য আবারও এক ভয়াবহ সংঘাতের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ট্রাম্পের বিশেষ দল এবং ইরানি প্রতিনিধিরা আস্থার সংকট কাটিয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেন কি না।
মন্তব্য করুন