প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে চালানো বিমান বাহিনীর একটি হামলা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে জনাকীর্ণ বাজারে আঘাত হেনেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অসংখ্য মানুষ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ও মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
নাইজেরিয়া সরকার ও সামরিক কর্মকর্তারা হামলাটি ‘ভুলবশত’ হয়েছে বলে স্বীকার করলেও দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, বর্নো রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা ইয়োবি রাজ্যের একটি গ্রামে এই বিমান হামলা চালানো হয়। হামলাটি যখন হয়, তখন সেখানে ‘জিল্লি সাপ্তাহিক বাজার’ চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও বেঁচে যাওয়া মানুষের বরাত দিয়ে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে যে, নিহতের সংখ্যা অন্তত ১০০। গত এক দশক ধরে চলা জিহাদি বিদ্রোহের কারণে এই অঞ্চলটি আগে থেকেই বিপর্যস্ত ছিল।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে দুর্বলতা এবং বিমান ইউনিটের সঙ্গে স্থলবাহিনীর সমন্বয়ের অভাবই এ ধরনের দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর ভুল অভিযানে নাইজেরিয়ায় অন্তত ৫০০ বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
ইয়োবি রাজ্য সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বোকো হারাম জঙ্গি গোষ্ঠীর একটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এর শিকার হয়েছেন বাজারে আসা সাধারণ মানুষ। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নাইজেরিয়া পরিচালক ইসা সানুসি জানিয়েছেন, তাঁরা বর্তমানে হাসপাতাল ও ভুক্তভোগীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছেন।
তবে নাইজেরিয়ার বিমান বাহিনী এই ভয়াবহ প্রাণহানির বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। এই ঘটনাটি নাইজেরিয়ার সামরিক অভিযানে বেসামরিক সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
মন্তব্য করুন