তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৭ ঘন্টা আগে, ১০:৩২ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

গুম-নির্যাতনের মামলায় সাক্ষী ব্যারিস্টার আরমানের দ্বিতীয় দিনের জেরা আজ

ব্যারিস্টার আরমান। ফাইল ছবি

টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষী ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমানের দ্বিতীয় দিনের জেরা আজ অনুষ্ঠিত হবে। এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই জেরা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, শুনানির শুরুতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেমসহ সাত আসামির পক্ষে আইনজীবী তাবারক হোসেন এবং অন্যান্য আইনজীবীরা সাক্ষীকে জেরা করবেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের মনোনীত স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীরা জেরা চালাবেন।

এর আগে গত ৮ মার্চ প্রথম দফায় সাক্ষী ব্যারিস্টার আরমানকে জেরা করা হয়। ওই দিন কর্নেল কেএম আজাদের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো আদালতে দাবি করেন, ব্যারিস্টার আরমানকে কোনো আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা গুম করেনি। বরং তিনি প্রায় আট বছর আত্মগোপনে ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি আরমানের লেখা বই “আয়নাঘরের সাক্ষী, গুমজীবনের আট বছর”–এ উল্লেখিত তথ্যকে মিথ্যা বলেও দাবি করেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সাক্ষী ব্যারিস্টার আরমান আদালতকে জানান, তাকে সত্যিই গুম করা হয়েছিল এবং বইয়ে বর্ণিত ঘটনাগুলো তার বাস্তব অভিজ্ঞতারই প্রতিফলন।

এর আগে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন ব্যারিস্টার আরমান। তার জবানবন্দিতে তিনি ২০১৬ সালে গুম হওয়ার পর দীর্ঘ আট বছর ধরে গোপন আটক অবস্থায় থাকার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। তিনি দাবি করেন, ওই সময় তাকে টিএফআই সেলে আটক রেখে নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়।

এদিকে মামলার গ্রেফতার ১০ আসামিকে ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে বলে জানা গেছে। গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।

অন্যদিকে শেখ হাসিনা ছাড়াও মামলার কয়েকজন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজির আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক এম খুরশিদ হোসেন, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ এবং র‍্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খায়রুল ইসলাম।

এই মামলাটি দেশে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে আলোচিত অন্যতম একটি মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা কার্যক্রমের অগ্রগতির দিকে এখন সবার নজর রয়েছে।

মন্তব্য করুন