প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৪:০৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তোফাজ্জল হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ২৮ জন আসামির বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানা অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার ২২ জন আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জালাল মিয়া, আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ, আল হোসাইন সাজ্জাদ, মো. মোত্তাকিন সাকিন শাহ, সুমন মিয়া, ওয়াজিবুল আলম, ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াছিন আলী, ইয়ামুজ্জামান ওরফে ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন ওরফে শাফি, আব্দুল্লাহিল কাফী, শেখ রমজান আলী রকি, রাশেদ কামাল অনিক, মনিরুজ্জামান সোহাগ, আবু রায়হান, রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ, রাব্বিকুল রিয়াদ ও আশরাফ আলী মুন্সী।
আসামিদের মধ্যে আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ ও ওয়াজিবুল আলম বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। জালাল মিয়া, আল হোসাইন সাজ্জাদ, মো. মোত্তাকিন সাকিন শাহ এবং সুমন মিয়া কারাগারে আছেন। বাকি ২২ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক জিন্নাত আলী জানান, মামলার বাদী মোহাম্মদ আমানুল্লাহ অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি তা জমা না দেওয়ায় আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টার দিকে এক যুবক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের গেটে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে আটক করে হলের মূল ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে যান। সেখানে মোবাইল চুরির অভিযোগ তুলে তাকে চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারতে শুরু করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই যুবক নিজের নাম তোফাজ্জল বলে জানান। পরে তিনি মানসিক রোগী বলে বুঝতে পেরে তাকে হলের ক্যান্টিনে নিয়ে খাবার খাওয়ানো হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তাকে হলের দক্ষিণ ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে জানালার সঙ্গে হাত বেঁধে স্ট্যাম্প, হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।
পরে রাত ১টার দিকে তাকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।
প্রথমে শাহবাগ থানার পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান মামলাটি তদন্ত করে ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন, যেখানে ২১ জন শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়। তবে তদন্ত সুষ্ঠু হয়নি উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি জানায়।
এরপর ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তৎকালীন মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে নির্দেশ দেন। পরে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম নতুন করে তদন্ত করে আরও সাতজনকে যুক্ত করে মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মন্তব্য করুন