মোঃ ইমাম হোসাইন

প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ০৯:৩২ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ইসরাইলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন চেয়ে রাজপথে হাজারো মানুষ

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়ে রাজধানী তেল আবিবের রাজপথে বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার মানুষ। শনিবারের এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলেছেন, দেশটিতে ‘প্রকৃত পরিবর্তনের শেষ সুযোগ’ হতে পারে এটি।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বিক্ষোভকারীরা জানান, নেতানিয়াহু ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী। তাদের কেউ কেউ তাকে ‘বড় চালবাজ’ বলেও আখ্যা দেন।

ইসরাইলের প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট এর আগে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন। তবে মঙ্গলবারের নির্বাচনের পর দেশটিতে যে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তাতে আরব দলগুলোর সমর্থন পেলে তার পক্ষে সরকার গঠন করা সম্ভব হতে পারে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিনিধি নূর ওদেহ শনিবার রামাল্লা থেকে জানান, ‘মানুষ সত্যিই চায় এই ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তনের একটি পথ বের হোক। তারা বিশ্বাস করে... গাদি আইজেনকোট ও ইহুদি-ইসরাইলি অন্য নেতাদের উচিত সাধারণ মানুষের এই জোরালো দাবি মেনে নেওয়া।’

বিক্ষোভের পাশাপাশি নেতানিয়াহুর সমর্থকেরাও পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে হাজির হন। তাদের চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘তথাকথিত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে ইসরাইলে কোনো সরকার গঠন করা যাবে না।’

মঙ্গলবারের নির্বাচনে ১২০ আসনের ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে আইজেনকোটের জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন তিনটি দল। তারা একজোট হয়ে মোট ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ‘রাআম’ এবং আরব নেতৃত্বাধীন তিন দলের জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’-এর পক্ষে পড়েছে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার ভোট। ২০২২ সালের শেষ নির্বাচনের তুলনায় এই ভোটের সংখ্যা প্রায় ৬৪ শতাংশ বেশি।

আরব দলগুলোর সমর্থন পেলে আইজেনকোটের জোটের আসনসংখ্যা বেড়ে ৬৭ হতে পারে। এতে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে ইসরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেক ইহুদির কাছে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন এখনো রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনি-ইসরাইলি দলগুলোর বিরুদ্ধে কাতার থেকে অর্থ নিয়ে নির্বাচন ‘চুরি’ করার চেষ্টা করার অভিযোগ তুলেছেন। তবে কাতার এ অভিযোগ অস্বীকার করে একে ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

সাংবাদিক নূর ওদেহ জানান, ইসরাইলের চরম ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলো ফিলিস্তিনি-ইসরাইলিদের এই ঐতিহাসিক ভোট দেওয়াকে ‘নির্বাচনি সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যা দিচ্ছে। এমনকি তারা একে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সঙ্গে তুলনা করছে। ওই দিন হামাস যোদ্ধারা দক্ষিণ ইসরাইলে হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা এবং শতাধিক মানুষকে জিম্মি করে নিয়ে যায়।

নূর ওদেহ আরও বলেন, ফিলিস্তিনি-ইসরাইলিদের ভোট ও কণ্ঠস্বর এখন আক্রমণের নিশানা হয়ে উঠেছে। কারণ, আইজেনকোট সরকার গঠন করতে পারবেন কি না, তা নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এখন তাদের হাতেই রয়েছে।

তথ্য সূত্র: আল জাজিরা

 

 

মন্তব্য করুন