আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:৩৫ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ইরানের হাতে কোনো কার্ড নেই, আলোচনাই তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের হাতে কোনো কার্ড নেই। তারা শুধু আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ন্ত্রণ করে সাময়িকভাবে বিশ্বকে জিম্মি করে রেখেছে। ইরানের নেতারা এখনও বেঁচে আছে শুধু আলোচনার জন্য।

শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ কথা লেখেন। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি বলেন, পাকিস্তানের আলোচনা ব্যর্থ হলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ আবার হামলা শুরু করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, “আমরা প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জানতে পারব।”

ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরসহ অন্যান্য কর্মকর্তা। মার্কিন দলের নেতৃত্বে আছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জারেড কুশনার।

আলোচনায় যেসব বিষয় উঠে আসবে বলে জানা গেছে— ইরানের প্রায় ৪৫০ কিলোগ্রাম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য খুলে দেওয়া, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন বন্ধ করা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি। পাল্টা ইরান চায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক এবং আটকে পড়া সম্পদ ছাড়িয়ে দেওয়া হোক।

তবে গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়েছেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের আটকে পড়া সম্পদ ছাড়িয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আলোচনা শুরু হবে না।

ট্রাম্প সংশয়ও প্রকাশ করে বলেন, “আমরা জানি না তারা সত্যি বলছে কি না। সামনে এসে বলছে সব পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে দেবে, আবার বাইরে গিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে চায়।”

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশাবাদী যে একটি চুক্তি সম্ভব। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাই একসঙ্গে কাজ করছেন।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

মন্তব্য করুন