আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:২৮ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী চাঁদের কক্ষপথ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরলেন চার নভোচারী

চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ শেষে সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরেছেন নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী। শনিবার ১১ এপ্রিল সকাল ৬টা ৭ মিনিটে (যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিট) তাদের বহনকারী ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে।

মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান ওরিয়ন ক্যাপসুলের ভেতর থেকে জানান, “কী অসাধারণ এক যাত্রা ছিল। আমরা স্থিতিশীল আছি। চার নভোচারীই সম্পূর্ণ সুস্থ (গ্রিন) আছেন।” এর মাধ্যমে তিনি নিশ্চিত করেন যে, রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার ও কানাডার জেরেমি হ্যানসেন—সবাই শারীরিকভাবে ভালো আছেন।

নাসার ল্যান্ডিং অ্যান্ড রিকভারি ডিরেক্টর লিলিয়ানা ভিয়ারিয়াল বলেন, সমুদ্রে অবতরণের দুই ঘণ্টার মধ্যে নভোচারীদের ক্যাপসুল থেকে উদ্ধার করা হবে। প্রথমে তাদের একটি ভেলায় (ফ্রন্ট পোর্চ) তোলা হবে, তারপর হেলিকপ্টারে করে মার্কিন নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘ইউএসএস জন পি মুরথা’য় নেওয়া হবে। জাহাজে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর বিমানে করে তাদের হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে নেওয়া হবে।

নাসার ফ্লাইট কন্ট্রোলার জেফ রাডিগান জানান, সমুদ্র শান্ত থাকলে উদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় লাগতে পারে।

এই মিশনটি ১০ দিন স্থায়ী হয়। ১ এপ্রিল যাত্রা শুরু করে নভোচারীরা চাঁদের দূরবর্তী অংশে পৌঁছে পৃথিবী থেকে ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল দূরত্বে অবস্থান করেন, যা ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ মিশনের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

ভিক্টর গ্লোভার প্রথম অশ্বেতাঙ্গ, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন নভোচারী হিসেবে চাঁদের কক্ষপথ ভ্রমণের ইতিহাস গড়েছেন। তাঁরা চন্দ্রপৃষ্ঠে অন্তত ছয়টি উজ্জ্বল উল্কাপাতের ঝলক সরাসরি দেখেছেন।

আর্টেমিস-২ মিশনটি ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষ পাঠানোর নাসা পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক ধাপ। নাসা প্লাস, অ্যামাজন প্রাইম, নেটফ্লিক্স ও অ্যাপল টিভিতে এই ঐতিহাসিক অবতরণ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

মন্তব্য করুন