প্রকাশিত: ১৪ ঘন্টা আগে, ১০:৪৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে বের হয়ে যাওয়ায় মিরপুর, গাজীপুর-ময়মনসিংহ এবং সাভার-আশুলিয়া-জিরানীসহ বিভিন্ন এলাকায় মোট ৬৭৯টি পোশাক কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে কাজ না করেই বাসায় ফিরতে বাধ্য হয়েছেন ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ জন শ্রমিক।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় ফের সড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। শ্রমিকরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলতে থাকে।
শ্রমিক আন্দোলনের কারণে মিরপুর মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রয়েছে।
বিজিএমইএর হিসাব অনুযায়ী, দেশের পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে মোট ২ হাজার ১৩৪টি কারখানার মধ্যে ১ হাজার ৪৫৫টি খোলা ছিল। সোমবার বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ৬৭৯টি কারখানার উৎপাদন বন্ধ ছিল।
বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, মিরপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, সাভার, আশুলিয়া, জিরানী বাজার, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের কারখানাগুলোর মধ্যে শ্রমিকরা কাজে অংশ না নিয়ে বের হয়ে যাওয়ায় এসব কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
মিরপুরের ৩২০টি কারখানার মধ্যে ৫৫টি থেকে শ্রমিকরা বের হয়ে যান। এতে কাজ না করে চলে যাওয়া শ্রমিকের সংখ্যা ৫৩ হাজার ৮৪০ জন।
গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকার ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ৩৮২টি বন্ধ ছিল। সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী শিল্পাঞ্চলের ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ২২৩টিতে সাত লাখ ৪৩ হাজার শ্রমিক কাজ বন্ধ রাখেন।
নারায়ণগঞ্জের ১৯৯টি কারখানার মধ্যে ৯টি থেকে শ্রমিকরা বের হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে চট্টগ্রামের ৩৪০টি কারখানায় কোনো শ্রমিক অসন্তোষ বা কাজ বন্ধের ঘটনা ঘটেনি।
শিল্পাঞ্চলগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।
মন্তব্য করুন