প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৫:০০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা তরুণী জেরিকা তাসনিম দিশার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. রিপন হোসেন এ আদেশ দেন।
এর আগে দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন রোববার আদালতে এ আবেদন জমা দেন।
রিমান্ড আবেদনে পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং উত্তরা এলাকার বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাহসিফের সঙ্গে দিশার একাধিক স্থানে যাতায়াতের তথ্য পাওয়া গেছে। গত ২৭ অক্টোবর রাতে তারা উত্তরা এলাকার নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে যান। ওই দিন সন্ধ্যায় একাধিকবার সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকসেও তাদের দেখা যায়। এ ছাড়া একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজেও তাহসিফের সঙ্গে দিশাকে দেখা গেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশের দাবি, তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেলে ঘোরাঘুরি করেছিলেন দিশা। তাহসিফের মুঠোফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করে তাদের মধ্যে একাধিকবার ফোনে কথা হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, এ মামলায় সন্দেহভাজন আরেক আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছেন। দিশা ও দীপের বক্তব্যের মধ্যে মিল-অমিল যাচাই করা প্রয়োজন। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দিশার সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলেও দাবি করেছে পুলিশ।
দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয়টি কারণ দেখিয়েছে তদন্ত সংস্থা। এগুলো হলো—তাহসিফ হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, মামলার আলামত উদ্ধার, হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণ, দিশা ও দীপের বক্তব্যের মধ্যে মিল-অমিল যাচাই এবং দিশার দেওয়া বক্তব্যের সত্যতা পরীক্ষা করা।
আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, দিশা জামিনে মুক্তি পেলে পালিয়ে গিয়ে তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন। এ কারণে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে শুনানি শেষে আদালত পুলিশের সাত দিনের আবেদনের বিপরীতে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ২৭ অক্টোবর রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ। পরিবারের দাবি, ওই দিন জুনিয়র বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপের ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হন তিনি। পরদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরখান থানাধীন তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মরদেহ উদ্ধারের আগের রাতে দীপের পাশাপাশি তাহসিফের সঙ্গে ছিলেন দিশাও। সোনারগাঁ জনপদের পাশের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারের ফুটেজ অনুযায়ী, রাত ১০টা ১৭ মিনিট থেকে ১১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন তারা। একই মোটরসাইকেলে করে দুজন সেখানে আসেন এবং পরে একসঙ্গে চলে যান।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হত্যা মামলা করেছেন। ওই মামলায় দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে চার দিনের রিমান্ডে নৌ-পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনায় দীপের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।
মন্তব্য করুন