তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৫৪ মিনিট আগে, ০৪:৩৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতার অভিযোগেঃ আ.লীগ-ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মী আটক

রাজধানীর মিরপুরে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবিতে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে মিশে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার চেষ্টা করার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

রোববার (১ নভেম্বর) ডিবির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খাঁন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। তবে শনিবার থেকে আন্দোলনকারীরা সহিংস হয়ে উঠেছেন। রোববারও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ শ্রমিকদের ব্যবহার করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নাশকতার চেষ্টা করছেন। শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্য থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে।

ডিবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, মিরপুর-১০ ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলার তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী রয়েছেন। তাঁর দাবি, মিরপুরের পলাতক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ভাগ্নে আলিফ মোল্লা নাশকতার সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীদের ঢাকায় আনার কাজও তিনি করেছেন বলে অভিযোগ করেন রাকিব খাঁন। সেখানে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি। তাঁদের শনাক্ত করে আটকের অভিযান চলছে।

এর আগে রোববার বেলা ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। এতে মিরপুর এলাকায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।

পরে দুপুরে আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আন্দোলনকারী শ্রমিকদের সঙ্গে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের নিয়ে সড়ক পরিষ্কার করা হয়েছে। জনভোগান্তি কমাতে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে। তবে কোনো লাঠিপেটা করা হয়নি। কাউকে আটকও করা হয়নি। পুলিশের কোনো সদস্য আহত হননি।

 

মন্তব্য করুন