প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৮ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
দীর্ঘ ১১ বছর পর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ড মামলার তদন্তে নতুন মোড় আসার পর চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান গ্রেফতার হওয়ার পরপরই ফরেনসিক রিপোর্ট প্রদানকারী চিকিৎসক ডা. কামাদা প্রাসাদ সাহার দেশত্যাগের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তনুর পিতা ইয়ার হোসেনের দাবি, কামাদা প্রাসাদ বর্তমানে এনওসি সংগ্রহ করে বিদেশে পালানোর পাঁয়তারা করছেন।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের অভ্যন্তর থেকে তনুর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধারের পর প্রথম ময়নাতদন্ত করেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক টিমের প্রধান ডা. কামাদা প্রাসাদ সাহা। সে সময় তনুর শরীরে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন থাকলেও তিনি মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করতে পারেননি বলে রিপোর্ট দেন। এমনকি দ্বিতীয় ময়নাতদন্তেও হত্যার কারণ এড়িয়ে গিয়ে তনুর চরিত্র নিয়ে আপত্তিকর ইঙ্গিত দেন তিনি, যা দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।
রোববার তনুর বাবা ইয়ার হোসেন ডা. কামাদা প্রাসাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “ডা. কামাদা প্রাসাদ সাহা ভুয়া ফরেনসিক রিপোর্ট দিয়েছিল। সে খুনিদের সঙ্গে আঁতাত করেছে।” তিনি আরও বলেন, “তখন ফরেনসিক রিপোর্ট পালটে দিয়েছিল ডা. কামাদা প্রাসাদ সাহা। সে আমাদের সহযোগিতা করেনি। সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি, তাকে আটক করে সঠিক রহস্য উদ্ঘাটন করা হোক।”
বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজের ট্রেজারার হিসেবে কর্মরত এই চিকিৎসক আমেরিকায় গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইয়ার হোসেন আরও বলেন, “মামলাটি আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে। তাই এই হত্যা ধামাচাপা দেওয়ার অন্যতম সহযোগী ও ভুয়া ফরেনসিক রিপোর্ট প্রদানকারী ডা. কামাদা প্রাসাদ সাহাকে এখনই নজরদারির আওতায় আনতে হবে। অবিলম্বে তার এনওসি প্রদানের প্রক্রিয়া স্থগিত ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে। আমি এ বিষয়ে আদালতে আবেদন করব।”
এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে ডা. কামাদা প্রাসাদ সাহার বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, মামলার বর্তমান তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই-এর পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম জানান, “আমরা তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। তদন্তে ওই হত্যাকাণ্ডে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
তনুর পরিবার ও সাধারণ মানুষের দাবি, এই প্রভাবশালী ফরেনসিক চিকিৎসককে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই ১১ বছরের পুরনো এই হত্যাকাণ্ডের আড়ালে থাকা প্রকৃত অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন হবে।
মন্তব্য করুন