আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ১০:১৬ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধির প্রস্তাব ‘অর্থহীন’: সামরিক জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণাকে ‘অর্থহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকারের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদী এই পদক্ষেপকে একটি ‘অপকৌশল’ হিসেবে অভিহিত করে কঠোর সামরিক জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে মাহদি মোহাম্মদী বলেন, “অবরোধ অব্যাহত রাখা সরাসরি বোমাবর্ষণের চেয়ে আলাদা কিছু নয় এবং এর জবাব অবশ্যই সামরিকভাবে দেওয়া উচিত। ট্রাম্পের এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো মূলত একটি আকস্মিক হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সময় কেনার অপকৌশল মাত্র।” তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, পরাজিত পক্ষ কোনো শর্ত চাপিয়ে দিতে পারে না এবং এখন ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা উদ্যোগ নেওয়ার সঠিক সময় চলে এসেছে।

এর আগে হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক ঘোষণায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের নেতারা নতুন কোনো প্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত মার্কিন সেনাবাহিনী সরাসরি হামলা করবে না। তবে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত কঠোর নৌ-অবরোধ আগের মতোই বলবৎ থাকবে।

ট্রাম্পের দাবি, পাকিস্তানের বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষিতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি আমাদের সেনাবাহিনীকে অবরোধ চালিয়ে যেতে এবং সব দিক থেকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছি। তাদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব জমা দেওয়া এবং আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে।” কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না করায় এই যুদ্ধবিরতিকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ‘অনির্দিষ্টকালের’ জন্য বলে মনে করছেন।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার প্রস্তুতির মধ্যেই ইরানের এই কড়া প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে ট্রাম্প আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা বলছেন, অন্যদিকে তেহরান বিষয়টিকে ওয়াশিংটনের একতরফা শর্ত ও ‘সামরিক জলদস্যুতা’ হিসেবে দেখছে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে পাল্টাপাল্টি অবরোধ ও মার্কিন নৌবাহিনী কর্তৃক ইরানি জাহাজ জব্দের ঘটনার পর তেহরানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ক্ষোভ তুঙ্গে। মাহদি মোহাম্মদীর এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কূটনৈতিক আলোচনার চেয়ে তেহরান এখন সামরিক প্রতিরোধের পথেই বেশি মনোযোগী হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বুধবারের পর সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

মন্তব্য করুন