প্রকাশিত: ৭ ঘন্টা আগে, ১০:১৮ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় বন্ধ করে দিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে এক বিবৃতিতে আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, ওয়াশিংটন তাদের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এই জলপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না। এমনকি প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়া যেকোনো জাহাজকে ‘শত্রুপক্ষের সহযোগী’ হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনে হামলা চালানোরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রেক্ষিতে এবং গত শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পথটি উন্মুক্ত করা হয়েছিল। তবে তেহরানের অভিযোগ, তারা পথ খুলে দিলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ এবং বন্দরগুলোর ওপর থেকে তাদের আরোপিত কঠোর অবরোধ সরায়নি। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইরানও পাল্টা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রণালিটি পুনরায় বন্ধ করার ঘোষণা দিল। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এই অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা জাগিয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই পদক্ষেপের জবাবে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের কোনো ধরনের চাপে নতি স্বীকার করবে না যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের মতে, যতক্ষণ পর্যন্ত তেহরানের সঙ্গে সব অমীমাংসিত বিষয়ে (বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা) একটি ১০০ শতাংশ সফল ‘লেনদেন’ সম্পন্ন না হচ্ছে, ততক্ষণ মার্কিন নৌ-অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো সমঝোতায় বাধ্য করতে পারবে না।
এদিকে কূটনৈতিক পর্যায়ে জটিলতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ তুরস্কের এক কূটনীতি ফোরামে স্পষ্ট করেছেন যে, একটি অভিন্ন ‘কাঠামো’ বা রূপরেখায় দুই পক্ষ একমত না হওয়া পর্যন্ত সরাসরি কোনো নতুন আলোচনায় বসবে না ইরান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতিকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাস’ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসা প্রস্তাবগুলো এখনো পর্যালোচনা করছে। আগামী সোমবার ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার আগে হরমুজ প্রণালির এই নতুন সংকট দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার পারদকে আবারও তুঙ্গে নিয়ে গেল।
মন্তব্য করুন