প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৪:৫০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ইরান-ইসরাইল যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতার প্রভাবে বাংলাদেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন দাম নিয়ে সচিবালয়ে পৃথক ব্রিফিংয়ে কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
সরকার লিটার প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি করেছে। নতুন নির্ধারিত মূল্য তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| জ্বালানির ধরন | পূর্বের দাম | বর্তমান দাম | বৃদ্ধির পরিমাণ |
| ডিজেল | ১০০ টাকা | ১১৫ টাকা | ১৫ টাকা |
| অকটেন | ১২০ টাকা | ১৪০ টাকা | ২০ টাকা |
| পেট্রোল | ১১৬ টাকা | ১৩৫ টাকা | ১৯ টাকা |
| কেরোসিন | ১১২ টাকা | ১৩০ টাকা | ১৮ টাকা |
জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানান, বৈশ্বিক যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো হলো:
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: আমেরিকাও তাদের তেলের দাম ৫ ডলার বাড়িয়েছে। যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বই দাম সমন্বয় (অ্যাডজাস্ট) করছে।
আমদানি ব্যয়: যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর চড়া দামে তেল আমদানি করে যে স্টক তৈরি করা হয়েছে, তার তুলনায় বর্তমান বিক্রয়মূল্য এখনো অনেক কম।
ভর্তুকি বজায়: দাম বাড়ানো হলেও সরকার এখনো জ্বালানি খাতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিচ্ছে। সঠিক হিসাব মন্ত্রণালয়ে বসে দেওয়া সম্ভব বলে তিনি জানান।
সহনীয় পর্যায়: বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে তেল কিনতে হচ্ছে। দাম কিছুটা বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জন্য পরিস্থিতি সহনীয় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
একই দিনে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর বসন্তকালীন বৈঠক নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অর্থমন্ত্রী। তিনি সামাজিক সুরক্ষা খাত ও ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে দাতা সংস্থাদের আগ্রহের কথা জানিয়ে বলেন:
"জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংকের কোনো অযৌক্তিক শর্ত মেনে নেবে না সরকার। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সব দ্বিপাক্ষিক সংস্থার সমর্থন রয়েছে।"
এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই দাম বৃদ্ধি পরিবহন ভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সরকার দাবি করছে, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতেই এই কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন