প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেছেন যে, দেশে অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে এবং এই সংগ্রামকে তিলে তিলে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট (আইইডিবি) মিলনায়তনে '১১ দলীয় ঐক্য' আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
'গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ' শীর্ষক এই সেমিনারে তিনি সরকারের দ্বৈত নীতি ও বর্তমান সংসদীয় পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করেন।
ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া প্রায় ১,৪০০ জনের মধ্যে ১,২০০ জনের বাড়িতে তিনি নিজে গিয়েছেন। তিনি বলেন, "এই শহীদদের ৬২ শতাংশই ছিলেন শ্রমিক। তাঁরা কেবল কোটা বৈষম্যের বিরুদ্ধে নয়, বরং ফ্যাসিবাদের অবসান ও রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন।" তিনি বর্তমান সংসদকে ‘জুলাই প্রোডাক্ট’ হিসেবে অভিহিত করে সতর্ক করে দেন যে, জুলাইয়ের চেতনার বিপক্ষে গিয়ে সরকার পার পাবে না।
বিরোধীদলীয় নেতা স্পষ্ট করে বলেন যে, তাঁরা ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা ভোগের জন্য সংসদে যাননি। জনগণের অধিকারের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে যদি কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা করা হয়, তবে তা সফল হবে না। তিনি বলেন, "যতদিন জাতির অধিকারের পক্ষে লড়াই প্রয়োজন, ততদিনই সংসদে থাকব; তার বাইরে এক সেকেন্ডও নয়।" তিনি আরও জানান, আগামী দিনের আন্দোলনে জামায়াত ও বিরোধী দল সামনের সারিতে থাকবে।
সংসদের ভেতর অতীতের মতো তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার প্রবণতা ফিরে আসছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের আমির। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "জিহ্বা সংযত করুন। জুলাই বিপ্লবের প্রজন্ম কারো রক্তচক্ষু পরোয়া করে না।" তিনি সংসদে ব্যক্তিপূজা বা চাটুকারিতার পরিবর্তে কেবল জনগণের সমস্যা ও সমাধান নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানান।
বক্তৃতায় তিনি বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে পারিবারিক রাজতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটানোর সংকল্প ব্যক্ত করেন। তিনি দেশবাসীকে আন্দোলনে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই লড়াই কোনো ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারার জন্য নয়, বরং ৭০ ভাগ মানুষের রায় এবং শহীদদের রক্তের ওয়াদা পূরণের লড়াই।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং এলডিপি চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। বক্তারা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে জুলাই বিপ্লবের চেতনা রক্ষায় রাজপথে থাকার অঙ্গীকার করেন।
মন্তব্য করুন