প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৪ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, তীব্র যানজট ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার কথা বিবেচনায় সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালুর পরীক্ষামূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এই সিদ্ধান্তকে ‘হঠকারিতা’ ও ‘বাস্তবতাবিবর্জিত ফালতু সিদ্ধান্ত’ বলে সমালোচনা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীব।
শনিবার ১১ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি বলেন, দেশে প্রায় এক লাখ স্কুল রয়েছে এবং গ্রামের সংখ্যা আশি হাজারের বেশি। অথচ মাত্র ৭২ শতাংশ পরিবারের কাছে স্মার্টফোন আছে। অর্থাৎ গ্রামাঞ্চলে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়িতে স্মার্টফোন নেই। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে অনলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অধ্যাপক নকীব আরও বলেন, যারা অনলাইন ক্লাস নিয়েছেন তারা জানেন, এ ধরনের ক্লাস নেওয়া মোটেও সহজ নয়। এর জন্য অনেক প্রস্তুতি ও দক্ষতা প্রয়োজন। কিন্তু দেশের কত শতাংশ শিক্ষকের এই দক্ষতা বা প্রশিক্ষণ আছে? তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবতা জ্ঞানহীন এবং হঠকারিতার উদাহরণ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে, নির্বাচিত কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীরে ক্লাস চালু করা হবে। এর ফলে শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটিও বাতিল হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, জ্বালানি সাশ্রয় ও যানজট কমানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে অধ্যাপক নকীবের সমালোচনায় উঠে এসেছে গ্রামীণ বাংলাদেশের বাস্তব চিত্র। তাঁর মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে পারে।
মন্তব্য করুন