বৃহস্পতিবার   ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৯ ১৪৩২   ২৪ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৩

২০২২-এর গণঅভ্যুত্থানে এমপি হত্যা: শ্রীলঙ্কায় ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

 

২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার ভয়াবহ সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে এক আইনপ্রণেতাকে হত্যা করার ঘটনায় ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। ওই সময়ের সহিংস আন্দোলনই শেষ পর্যন্ত তৎকালীন প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করেছিল।

 

গাম্পাহা হাইকোর্টের তিন বিচারকের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে রায় ঘোষণা করেন। একই মামলায় অভিযুক্ত আরও ২৩ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। তবে দণ্ডপ্রাপ্তরা এই রায়ের বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সুযোগ পাবেন।

 

মামলার নথি অনুযায়ী, নিত্তাম্বুয়া শহরে ৫৭ বছর বয়সী সংসদ সদস্য অমরকীর্তি আথুকোরালা বিক্ষোভকারীদের হাতে নিহত হন। তদন্তকারীরা আদালতকে জানান, বিক্ষোভকারীরা তার গাড়ি আটকে দিলে তিনি আতঙ্কিত হয়ে গুলি চালান। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জনতা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে।

 

মালয়েশিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য সান জানিয়েছে, ঘটনার সময় আথুকোরালা একটি ভবনে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের ভিড় তাকে ঘিরে ফেলে। অভিযোগ রয়েছে, তার নিজ দেহরক্ষীরাও ওই হামলায় জড়িত ছিলেন।

 

খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের তীব্র সংকটকে কেন্দ্র করে ২০২২ সালের মে মাসে শ্রীলঙ্কাজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শেষ হয়ে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় আমদানি ব্যয় মেটাতে পারছিল না দেশটি। ওই আন্দোলনের মধ্যেই একের পর এক সহিংস ঘটনার জন্ম হয়।

 

আইন অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কায় গুরুতর অপরাধে এখনও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও ১৯৭৬ সালের পর থেকে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। তবুও আদালতের রায়ে দোষীদের ফাঁসির আদেশ নিয়মিতভাবেই দেওয়া হয়ে থাকে।

 

২০২২ সালের ওই বিক্ষোভে সরকারদলীয় আইনপ্রণেতাদের অন্তত ৭৫টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর আগে কলম্বোতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের সমর্থকদের হামলার পর পরিস্থিতি আরও বিস্ফোরক হয়ে ওঠে।

 

অবশেষে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে এবং তার ভাই প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে দু’জনই পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। একই বছরের এপ্রিল মাসে শ্রীলঙ্কা ৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈদেশিক ঋণে খেলাপি হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে আন্দোলন জোরালো হয়।

 

পরবর্তীতে রাজাপাকসের উত্তরসূরি হিসেবে রনিল বিক্রমাসিংহে দায়িত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ সহায়তা নিশ্চিত করেন। তবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি বামপন্থি নেতা অনুরা কুমারা দিশানায়েকের কাছে পরাজিত হন।

 

ক্ষমতা গ্রহণের পর দিশানায়েকে পূর্ববর্তী সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন নীতি বহাল রেখে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।

এই বিভাগের আরো খবর