মঙ্গলবার   ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২১ ১৪৩২   ১৫ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৮

নারীবিদ্বেষ ইস্যু ঢাকতে ইতিহাস বিকৃত করছে জামায়াত: রিজভি

তরুণকণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

সংগ্রহীত ছবি 

 

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, নারীদের প্রতি অবমাননাকর বক্তব্যের কারণে সারাদেশে সৃষ্টি হওয়া তীব্র প্রতিক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে জামায়াতের আমির নতুন করে স্বাধীনতার ঘোষক ইস্যু সামনে এনেছেন।

 

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি বলেন, “জামায়াতের আমির নারীদের সম্পর্কে যে অবমাননাকর ও কুৎসিত বক্তব্য দিয়েছেন, তা সারাদেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। এই ঘটনার দায় এড়াতে এবং জনমতকে বিভ্রান্ত করতে এখন স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বিতর্ক তোলা হচ্ছে। কিন্তু স্বত:সিদ্ধ ও প্রতিষ্ঠিত কোনো সত্যকে এভাবে আড়াল করা যাবে না।”

 

রিজভী আরও বলেন, “আপনারা যদি কখনো ক্ষমতায় আসেন, তাহলে সেই শাসন কতটা ভয়াবহ, অন্ধকারাচ্ছন্ন ও যন্ত্রণাদায়ক হবে—তা গোটা জাতি কল্পনাও করতে চায় না। এতে গণতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়বে এবং আরেকটি ফ্যাসিবাদের নতুন রূপ দেখা দেবে।”

 

তিনি বলেন, জামায়াত রাজনৈতিক স্বার্থে ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করছে। প্রকৃত স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান। তিনি মেজর হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার দিশা দিয়েছিলেন। “এখন রাজনৈতিক স্বার্থে জামায়াতের আমির আমাদের বড় ভাই অলি আহমেদকে স্বাধীনতার প্রথম ঘোষক হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন। অথচ তিনি নিজেও কখনো এমন দাবি করেননি। তিনি সবসময় বলেছেন, তিনি জিয়াউর রহমানের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।”

 

রিজভী জামায়াত নেতাদের উদ্দেশে বলেন, “স্বাধীনতার সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক কী? যখন হানাদার বাহিনী আমাদের মা-বোনদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, তখন আপনারা সেই নির্যাতনের বিরুদ্ধে দাঁড়াননি; বরং তাদের সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। আজ কোন মুখে, কোন উদ্দেশে আপনি স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে কথা বলেন?”

 

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “কিছুদিন পর হয়তো আপনারা বলবেন গোলাম আজমই ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক। কারণ মিথ্যা বলতে আপনারা কখনো পিছপা হন না। ইসলামের নামে ব্যবসা করা এবং মুনাফেকিই আপনাদের চরিত্র। ইসলাম সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করে এই মুনাফেকিকে।”

 

রিজভী রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে উল্লেখ করেন, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে জামায়াত ও শেখ হাসিনা প্রথমে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল, কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ নয় বছর ধরে নির্যাতন, নিপীড়ন, গ্রেপ্তার ও গৃহবন্দিত্ব সহ্য করে তবু নিজের সিদ্ধান্ত ভাঙেননি। এজন্য জনগণ বারবার তাকে সমর্থন দিয়েছে।

 

মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহিন, নির্বাহী কমিটির সদস্য তারিকুল আলম তেনজিং, মাইনুল ইসলামসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরো খবর