বৃহস্পতিবার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৩ ১৪৩২   ১৭ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৬

জামায়াত ক্ষমতায় এলে সরকারি চাকরি ও ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি বাতিল

নাজমুল হুদা

প্রকাশিত: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এলে সরকারি চাকরিতে সব ধরনের আবেদন ফি নেওয়ার প্রথা বাতিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষার সব স্তরে ভর্তি পরীক্ষার ফি নেওয়া বন্ধ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দলটি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঘোষিত ইশতেহারে এসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াত। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে এ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান এ ইশতেহার ঘোষণা করেন।

 

ইশতেহারে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরির আবেদনের জন্য যে ফি নেওয়ার রীতি আছে, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে এ নিয়ম বাতিল করা হবে। শিক্ষাব্যবস্থা অংশে ১৯ নম্বর পয়েন্টে বলা হয়েছে, শিক্ষাকে সহজ ও সর্বজনীন করার লক্ষ্যে সব স্তর (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রভৃতি) থেকে ভর্তি পরীক্ষা ফি বাদ দেওয়া হবে। সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে ‘ভিশন: সবার আগে যুবসমাজ’ অংশে। এর ১০ নম্বর পয়েন্টে উল্লেখ রয়েছে, যোগ্যরাই সরকারি চাকরিতে, বয়স কোনো বাধা নয়—এ নীতি অনুসরণ করা হবে।

 

অন্যদিকে, শিক্ষাব্যবস্থা অংশের ৪২ নম্বর ধারায় উল্লেখ রয়েছে, অষ্টম শ্রেণির পর থেকে হায়ার সেকেন্ডারি বা উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থাকে চারটি পৃথক ধারায় বিভক্ত করা হবে। সেগুলো হলো—ইসলামিক শিক্ষা, বিজ্ঞান শিক্ষা, সাধারণ শিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষা। ইশতেহারে শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে আরও বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, দলটি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের সমন্বয়ে স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন করা হবে। শিক্ষা বাজেট বাড়িয়ে জিডিপির ৬ শতাংশ করার কথাও তুলে ধরা হয়েছে ইশতেহারে।

 

আর্থিকভাবে অসচ্ছল কোনো শিক্ষার্থী বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলে বিনা সুদে প্রথম দুই সেমিস্টার ফি সরকার প্রদান করবে। আর দেশের ভেতর দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাসে তিন হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। স্নাতক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসার এক লাখ মেধাবী শিক্ষার্থীকে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ারও ঘোষণা রয়েছে ইশতেহারে। স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগের জন্য পৃথক নিয়োগ পদ্ধতি ও বেতন কাঠামো প্রচলন করা হবে। এছাড়া, সব শিক্ষকদের পর্যায়ক্রমে উচ্চ গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

 

মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছে দলটি। ইশতেহারে ঘোষণা করা হয়েছে, জামায়াত সরকার গঠন করলে ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো সরকারি করা হবে। পরিমার্জন করা হবে কওমি শিক্ষা সিলেবাসও। নারীশিক্ষার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে দলটি। এতে বলা হয়েছে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে স্নাতক পর্যন্ত নারীরা বিনা বেতনে পড়াশোনা করতে পারবেন। শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধ, শিক্ষায় সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, শিক্ষাক্রমের আধুনিকায়নসহ বেশ কিছু পরিকল্পনার কথাও রয়েছে জামায়াতের ইশতেহারে। এই ইশতেহার ঘোষণার মাধ্যমে জামায়াত যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন। 

এই বিভাগের আরো খবর