বৃহস্পতিবার   ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৯ ১৪৩২   ২৪ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৩১৮

 স্ত্রীর পরকীয়ায় বিষ খেলেন স্বামী

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর ২০২০  

স্ত্রীর পরকীয়ার কারণে বিষ খেলেন স্বামী। গত ১৩ নভেম্বর ২০২০শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক বারোটার দিকে স্ত্রীর পরকীয়ার ঘটনা জানতে পেরে অটোরিকশা চালক মোঃ সাদ্দাম বেপারী (২৮) লজ্জায় ঘৃণায় কষ্টে বিষ খেলেন। মোঃ সাদ্দাম বেপারী ,পিতা আকবর বেপারী সং খেলছি বিলাস খান -থানা -পালং, বর্তমান ঠিকানা শরীয়তপুর পৌরসভা ১ নং ওয়ার্ডের পালং গ্রামের পালং উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশেই দীর্ঘ বছর যাবত ভাড়া থাকে এবং স্ত্রী সুমি বেগম ২০, পিতা আকবর সর্দার, গ্রাম -পালং ইউনিয়নের চাঁদসার সরদার বাড়ি। স্ত্রীর সুমি বেগম এর সাথে ২০১২ সালের দিকে অটোরিকশা চালক সাদ্দাম বেপারীর সাথে রং নাম্বারে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্কের জেরে প্রায় এক বছর পর ২০১৩ সালে উভয় পরিবারের সম্মতিক্রমে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী স্ত্রী তারা দুজনে সদর পৌরসভা পালং গ্রামের পালং উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছাকাছি ভাড়াটিয়া বাড়িতে ভাড়া থাকে। বিয়ের কিছু দিন পর থেকেই চলে তাদের সংসারে বিভিন্ন অশান্তি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে সাদ্দামের স্ত্রী সুমি বেগম বিভিন্ন ছেলেদের সাথে এবং মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। স্বামী সাদ্দাম বেপারী, স্ত্রীর এসব কুকীর্তি জানার কারণে তাদের উভয়ের মধ্যে চলে দ্বন্দ্ব ও ঝগড়া ফাসাদ।স্বামী স্ত্রীর এরকম দ্বন্দ্ব নিয়ে প্রায় ৭ বছর পার করে দিলেন তাদের সংসার।তাদের এই সাত বছর সংসার জীবনে ২০১৮ সালে তাদের কোল জুড়ে আসে এক ফুটফুটে বাচ্চা। এই বাচ্চার নাম রাখা হয় আব্দুল্লাহ তার বর্তমান বয়স দুই বছর। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে  সুমির সাথে সাদ্দামের বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রী ভাড়া বাড়িতে ভাড়া থাকে। স্ত্রী সুমি বেগম তার শ্বশুর শাশুড়ির সাথে তার স্বামী সাদ্দাম কে কোন সম্পর্ক রাখতে দিত না এমনকি সাদ্দাম রাস্তাঘাটে গোপনে নিজ বাবা মার সাথে কথা বললেও স্ত্রী সুমি বেগম সাদ্দামের সাথে ঝগড়া ফ্যাসাদ অশান্তি করত। ওইসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সবসময়ই চলত ঝগড়া। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে সুমির বড় বোন লাকি বেগম এর সাথে দীর্ঘ বছর আগে ডোমসার নিবাসী এক ছেলের সাথে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। ওই ঘরে দুটি সন্তান রয়েছে তবুও চরপালং এ স্থায়ীভাবে বসবাসরত ড্রেজার বালু ব্যবসায়ীর সাথে পরকীয়ার মত অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এ পরকীয়ার ঘটনা, লাকির স্বামী সোহেল জানার পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চলে দ্বন্দ্ব ।এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে লাকি তার স্বামীর বিরুদ্ধে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে একটি মামলা করেন। ওই মামলার কারণে স্বামী সোহেল দীর্ঘদিন জেল খাটে। লাকির ছোট বোন সুমি গণমাধ্যমকে বলেন আমার পূর্বের দুলাভাই সোহেলের সাথে আমার বোনের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। সুমি আরো বলেন চরপালং এ স্থায়ীভাবে বসবাসরত ড্রেজার বালু ব্যবসায়ী ওই ব্যক্তির সাথে আমার বোনের সাথে গোপনে বিয়ে হয়। বর্তমানে তিনি আমার দুলাভাই। সাদ্দামের স্ত্রী সুমি বলেন বর্তমান দুলাভাই আমার বাড়িতে যাতায়াত করে। সাদ্দাম এ যাতায়াতের ঘটনা জানতে পেরে ওই বালু ব্যবসায়ীকে বাধা দিলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চলে তুমুল দ্বন্দ্ব। ওই দ্বন্দ্বের জেরে বর্তমান দুলাভাইয়ের সাথে সুমির পরকীয়ার জেরে লজ্জায় ঘৃণায় কষ্টে অটোরিকশাচালক সাদ্দাম বিষ পান করেন।

বর্তমানে সদ্দাম বেপারী আশঙ্কাজনক অবস্থায় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভর্তি রয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর