আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫২ মিনিট আগে, ০৮:০১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

স্বাস্থ্য পরিস্থিতির অবনতিতে ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির অবনতির পর তাকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি ৭৩ বছর বয়সি ইমরান বর্তমানে দুর্নীতির মামলায় ১৪ বছরের সাজা ভোগ করছেন।

ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। তিনি ও তার সমর্থকেরা এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।

২০২২ সালের এপ্রিলে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইমরান খান ও তার দল পিটিআইয়ের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইমরানকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

কারাগারে থাকলেও ইমরান খান পাকিস্তানের রাজনীতিতে প্রভাব ধরে রেখেছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তার সমর্থিত প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেন।

শিফা হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ইমরান খানকে ইসলামাবাদের শিফা হাসপাতালে স্থানান্তরের কথা রয়েছে। একই সঙ্গে তার চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বোর্ডে ইমরানের বোন ডা. উজমা খান এবং তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. ফয়সাল সুলতানকে রাখার কথা বলা হয়েছে।

ইমরানের উপদেষ্টা সায়েদ জুলফি বুখারি জানিয়েছেন, হাসপাতাল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সরকারের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার ফল নয়। তার দাবি, এটি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ভিত্তিতে হয়েছে এবং তারা আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। ইমরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা হয়নি বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে পাকিস্তানের আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার জানিয়েছেন, সরকার এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার কথা বিবেচনা করেছে। তার দাবি, সাজাপ্রাপ্ত বন্দির চিকিৎসা কারাগারের ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই করা উচিত।

ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে পিটিআইয়ের অভিযোগ

পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, কারাগারে ইমরান খান পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছিলেন না। দলটির দাবি, তাকে দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং এতে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।

পিটিআই জানিয়েছে, ইমরান দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, রক্তচাপের ওঠানামা এবং পরিবারের সঙ্গে সীমিত যোগাযোগের কারণে উদ্বেগের মতো সমস্যায় ভুগছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক রুমি রাজা বলেন, ইমরানের চিকিৎসার বিষয়টি আস্থা ও স্বচ্ছতার প্রশ্নের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে। ইমরানের পরিবার ও পিটিআই চিকিৎসাব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা

দীর্ঘ কারাবাসের মধ্যে ইমরান খান ও পিটিআইয়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা চলছে। দলের প্রধান নেতা সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে না থাকায় পিটিআই কতটা জনসমর্থন ধরে রাখতে পারবে, সে প্রশ্নও উঠেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক কামার চিমা মনে করেন, ইমরান খানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সহজ নয় এবং ভবিষ্যতে তাকে রাজনৈতিক সমঝোতার পথে যেতে হতে পারে।

অন্যদিকে ইমরান খানের জনপ্রিয়তার কারণে তাকে পাকিস্তানের রাজনৈতিক সমীকরণ থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া কঠিন বলে মত দিয়েছেন কয়েকজন বিশ্লেষক।

রাজা রুমি বলেন, ইমরানকে কারাগারে রাখলেও তার রাজনৈতিক প্রভাব কমছে না। আবার তাকে মুক্তি দিলে নতুন রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিশ্লেষকদের আলোচনায় সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার ক্ষেত্রে আইনি সুবিধা, পিটিআইয়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ইমরান খানের মুক্তির মতো বিষয় উঠে এসেছে। তবে দুই পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান অবিশ্বাসকে এ ধরনের সমঝোতার বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন