প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৬:১৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
কলকাতার কাশীপুরের জ্যোতিনগর কলোনিতে গত ৪৬ দিন ধরে পাঁচটি সরকারি নলে পানি আসছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের এই বসতিতে পানি সংকটের কারণে বাসিন্দাদের দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, গত ২৯ জুলাই এলাকায় পাইপলাইনের কাজ হওয়ার পর থেকেই কলোনির সরকারি নলগুলোতে পানি আসা বন্ধ হয়ে যায়। তাদের অভিযোগ, কলোনির আগের ও পরের হিন্দুপ্রধান এলাকায় নিয়মিত পানি পাওয়া গেলেও তাদের এলাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, তাদের মুসলিম পরিচয় এবং এলাকা থেকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে পানির লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক রিতেশ তিওয়ারির একটি পুরোনো বক্তব্যেরও যোগসূত্র দেখছেন তারা। নির্বাচনের পর মুসলমানদের জন্য কোনো কাজ করবেন না বলে বিধায়ক প্রকাশ্যে শপথ করেছিলেন—এমন দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তবে পানির লাইন বন্ধের সঙ্গে ওই বক্তব্যের সরাসরি সম্পর্কের কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কিছুদিন বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন ছিল।
দীর্ঘদিন পানি না থাকায় কলোনির বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। নারী ও শিশুরা ভ্যানে করে দূর-দূরান্ত থেকে পানি নিয়ে আসছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পানির সংকটের কারণে অনেকে গঙ্গার পানি দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, গঙ্গার নোংরা ও কাদাযুক্ত পানি দিয়ে থালাবাসন ধোয়া ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করতে হচ্ছে।
জ্যোতিনগর কলোনির জমির মালিক শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্ট, কলকাতা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ কলোনির বাসিন্দাদের অবৈধ দখলদার উল্লেখ করে উচ্ছেদের নোটিশ দেয়।
এরপর বাসিন্দারা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালত আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্ছেদের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পোর্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, এই বসতির কারণে প্রতি বছর তাদের দুই কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক রিতেশ তিওয়ারি জানিয়েছেন, জমিটি পোর্টের এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। এ কারণে এ বিষয়ে তার করার কিছু নেই বলে তিনি দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশ ও কাউন্সিলরের কাছে অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি বলে জানিয়েছেন।
গত ৯ সেপ্টেম্বর সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জি জ্যোতিনগর কলোনি পরিদর্শন করেন। এরপর দলের উদ্যোগে বাসিন্দাদের জন্য নিয়মিত পানি সরবরাহে একটি ওয়াটার ট্যাংকারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তবে দীর্ঘ ৪৬ দিনের পানি সংকটের স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন