তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৪৫ মিনিট আগে, ০৭:২০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১৩ হাজার কোটি টাকার অভিযোগ, অনুসন্ধানে দুদক

ছবি: সংগৃহীত

সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নিয়োগ-পদায়ন, বদলি, পদোন্নতি, টেন্ডার, উন্নয়ন প্রকল্প এবং বিদেশে অর্থপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকে দেওয়া অভিযোগে উল্লেখিত আর্থিক অনিয়ম ও লেনদেনের অঙ্ক যোগ করলে মোট পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা বলে জানা গেছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুদক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। তবে অভিযোগে উল্লিখিত অর্থের পরিমাণ ও সংশ্লিষ্টতার সত্যতা অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে দুদক।

দুদক সূত্র জানায়, অভিযোগের সবচেয়ে বড় অংশ হলো দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে মোট ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের দাবি। এর মধ্যে দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে এসব অর্থ দিয়ে বিভিন্ন দেশে বিলাসবহুল ভিলা কেনা ও ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে। পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখার অভিযোগও রয়েছে। আসিফ মাহমুদের দুই বোন জামাই ও এক ভাগ্নের মাধ্যমে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিসি পদায়নে লেনদেনের অভিযোগ

দুদকের অনুসন্ধানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে সারা দেশে ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখিত সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ অঙ্কের হিসাবে ৩৬ জনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য লেনদেনের পরিমাণ ৭২ কোটি থেকে ৩৬০ কোটি টাকা। এসব অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করবে দুদক।

এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গে আসিফ মাহমুদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

প্রকল্প ব্যয় বাড়ানোর অভিযোগ

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা মুরাদনগরের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়েও অভিযোগে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

নিয়োগে ঘুষের অভিযোগ

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগের ক্ষেত্রে ১০ কোটি টাকা উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে।

এলজিইডির সাবেক চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুর রশীদ খানকে ৫২ কোটি টাকা এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সিইও হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে ৬৫ কোটি টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

আসিফ মাহমুদের স্বজন ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ

দুদকে দেওয়া অভিযোগে আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেন ও এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধেও ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ করা হয়েছে।

তার পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনে তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া হেলিকপ্টারে কম্বল বিতরণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় এবং বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে গুলিভর্তি ব্যাগ নিয়ে প্রবেশের ঘটনাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পাঁচ তারকা হোটেলে যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও গাড়ি ব্যবহারের বিষয়েও অভিযোগে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

আগের অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত নতুন অভিযোগ

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অন্যরা হলেন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।

ওই অনুসন্ধানে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়নের মাধ্যমে ৭৬ লাখ টাকা, ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং পদোন্নতির পর পছন্দের জায়গায় পদায়নের জন্য ২ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছিল।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের টেন্ডার, কেনাকাটা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগও ওই অনুসন্ধানে রয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, আগের অভিযোগের সঙ্গে নতুন অভিযোগটি সংযুক্ত করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগে উল্লিখিত বিষয়গুলোর সত্যতা অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।

মন্তব্য করুন