লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:৫৩ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

রক্তচাপ কতটা কমলে বিপদ, জেনে নিন সতর্ক হওয়ার লক্ষণ

ছবি: সংগৃহীত

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে সচেতনতা থাকলেও নিম্ন রক্তচাপ বা লো প্রেশার নিয়েও সতর্ক থাকা জরুরি। সাধারণভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্কের রক্তচাপ ৯০/৬০ mmHg-এর নিচে নেমে গেলে তাকে নিম্ন রক্তচাপ বা হাইপোটেনশন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে শুধু একটি কম রিডিং দেখেই বিপদ ধরে নেওয়া যায় না—রক্তচাপ কমার সঙ্গে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, ঝাপসা দেখা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো উপসর্গ আছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

কখন লো প্রেশার নিয়ে সতর্ক হবেন?

কিছু মানুষের রক্তচাপ স্বাভাবিকভাবেই তুলনামূলক কম থাকতে পারে এবং কোনো উপসর্গ না থাকলে সাধারণত তা নিয়ে আলাদা চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসাবিষয়ক সূত্র অনুযায়ী, ৯০/৬০ mmHg বা তার কাছাকাছি রক্তচাপ উপসর্গহীন অবস্থায় সবসময় উদ্বেগের কারণ নয়। কিন্তু একই সঙ্গে বারবার উপসর্গ দেখা দিলে কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন।

লো প্রেশারের সাধারণ উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • মাথা ঘোরা বা ঝিমঝিম করা
  • চোখে ঝাপসা বা অন্ধকার দেখা
  • অতিরিক্ত দুর্বলতা বা ক্লান্তি
  • বমি বমি ভাব
  • মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা
  • অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

বিশেষ করে বসা বা শোয়া অবস্থা থেকে দাঁড়ানোর পর নিয়মিত মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগলে পোশ্চারাল বা অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন থাকতে পারে। এ ধরনের উপসর্গ বারবার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কেন কমে যেতে পারে রক্তচাপ?

লো প্রেশারের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত ঘাম, বমি বা ডায়রিয়া, কিছু ওষুধ, রক্তক্ষরণ, হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা, হরমোনজনিত কিছু রোগ এবং গুরুতর সংক্রমণ রক্তচাপ কমিয়ে দিতে পারে।

তাই নিয়মিত কম রক্তচাপের সঙ্গে উপসর্গ থাকলে শুধু পানি বা লবণ খেয়ে বিষয়টি সামাল দেওয়ার চেষ্টা না করে এর কারণ নির্ণয় করা গুরুত্বপূর্ণ।

হঠাৎ রক্তচাপ কমলে কী করবেন?

লো প্রেশারের উপসর্গ দেখা দিলে কয়েকটি সাধারণ পদক্ষেপ উপকারী হতে পারে—

১. পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
পানিশূন্যতা রক্তচাপ কমিয়ে দিতে পারে। তাই পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।

২. হঠাৎ উঠে দাঁড়াবেন না।
দীর্ঘ সময় শোয়া বা বসার পর ধীরে ধীরে অবস্থান পরিবর্তন করুন। প্রথমে বসে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে তারপর দাঁড়ানো ভালো।

৩. একসঙ্গে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে খাবার খান।
বিশেষ করে খাওয়ার পর রক্তচাপ কমে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে ছোট ও ঘন ঘন খাবার উপকারী হতে পারে।

৪. নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।
কিছু ওষুধ রক্তচাপ কমিয়ে দিতে পারে। তবে নিজের সিদ্ধান্তে কোনো ওষুধ বন্ধ বা ডোজ পরিবর্তন করা উচিত নয়।

কখন দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন?

রক্তচাপ হঠাৎ অনেক কমে যাওয়ার সঙ্গে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি, ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে ত্বক, দ্রুত ও দুর্বল নাড়ি, দ্রুত অগভীর শ্বাস ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিলে পরিস্থিতি গুরুতর হতে পারে এবং জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।

এ ছাড়া বারবার মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো উপসর্গ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ শুধু রক্তচাপের সংখ্যা নয়, কেন রক্তচাপ কমছে—তা নির্ণয় করাও গুরুত্বপূর্ণ।

মনে রাখা জরুরি: ৯০/৬০ mmHg একটি সাধারণ নির্দেশক মাত্র। ব্যক্তিভেদে স্বাভাবিক রক্তচাপ আলাদা হতে পারে। তাই রক্তচাপের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যাকে একা দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে রক্তচাপের মাত্রা, উপসর্গ ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনা করা উচিত।

মন্তব্য করুন