প্রকাশিত: ৫২ মিনিট আগে, ১০:৪০ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একটি পোস্টকে ঘিরে চাঁদের মালিকানা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বর ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট থেকে ‘দ্য মুন ইজ আওয়ার্স’ বা ‘চাঁদ আমাদের’ লেখা একটি পোস্ট প্রকাশ করা হয়। পোস্টটির সঙ্গে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার ছবি। তবে পোস্টটিকে চাঁদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানা দাবির কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এর সঙ্গে কোনো নির্বাহী আদেশ বা আইনি ঘোষণাও দেওয়া হয়নি।
আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতেও কোনো দেশের পক্ষে চাঁদ বা অন্য কোনো মহাজাগতিক বস্তুর ওপর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। জাতিসংঘের আউটার স্পেস ট্রিটির দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, চাঁদসহ কোনো মহাজাগতিক বস্তুকে সার্বভৌমত্বের দাবি, ব্যবহার বা দখলের মাধ্যমে জাতীয় সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করা যাবে না।
যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তির প্রতিষ্ঠাতা স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর একটি এবং পরে চুক্তিটি অনুমোদনও করেছে। ফলে ট্রিটির বিধান অনুযায়ী, চাঁদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একক মালিকানা প্রতিষ্ঠার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
জাতিসংঘের আউটার স্পেস অ্যাফেয়ার্স অফিসের (UNOOSA) একজন মুখপাত্র ১০ সেপ্টেম্বর জানান, কোনো বিবৃতি আউটার স্পেস ট্রিটির অধীনে চাঁদের আইনি অবস্থার পরিবর্তন ঘটায় না। তবে কোনো বক্তব্য ওই ট্রিটির দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের অধীনে সার্বভৌমত্বের দাবি হিসেবে বিবেচিত হবে কি না, তা নির্ভর করবে বক্তব্যটির আইনি চরিত্র, পরিস্থিতি ও উদ্দেশ্যের ওপর।
চাঁদে পৌঁছানো অন্য দেশগুলোর মধ্যেও চীন, রাশিয়া, ভারত ও জাপান আউটার স্পেস ট্রিতে স্বাক্ষর করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে চাঁদের মালিকানা দাবি করলেও সেটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
ট্রাম্প প্রশাসনের মহাকাশনীতি অবশ্য এর আগেও আলোচনায় এসেছে। ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ‘Ensuring American Space Superiority’ শিরোনামের একটি নির্বাহী আদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণের কথা জানানো হয়। এতে চাঁদ ও কক্ষপথে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও মহাকাশসম্পদ নিয়ে একটি নির্বাহী আদেশ জারি হয়েছিল। ‘Encouraging International Support for the Recovery and Use of Space Resources’ শিরোনামের ওই আদেশে যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশকে ‘গ্লোবাল কমন্স’ হিসেবে দেখে না বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। অর্থাৎ জাতীয় এখতিয়ারের বাইরে থাকা একটি অভিন্ন এলাকা হিসেবে মহাকাশকে বিবেচনা করে না যুক্তরাষ্ট্র।
তবে মহাকাশসম্পদ ব্যবহার ও কোনো মহাজাগতিক বস্তুর ওপর ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্ব দাবি—দুটি পৃথক আইনি বিষয়। মহাকাশসম্পদ ব্যবহারের প্রশ্নে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক ও বিভিন্ন ব্যাখ্যা থাকলেও আউটার স্পেস ট্রিটির দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ মহাজাগতিক বস্তুর জাতীয় দখল বা সার্বভৌমত্বের দাবি নিষিদ্ধ করে।
ট্রাম্পের পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠে—কোনো দেশ কি সত্যিই চাঁদের মালিক হতে পারে? ৭ সেপ্টেম্বর একটি ফেসবুক পেজেও কয়েক ঘণ্টা ধরে একই প্রশ্ন ইন্টারনেটে ঘুরছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বিষয়টি যাচাই করতে হোয়াইট হাউসের প্রেস অফিস ও জাতিসংঘের আউটার স্পেস অ্যাফেয়ার্স অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান স্নোপস। পরে ১০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের দপ্তরের মন্তব্য যুক্ত করে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হয়।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের ‘চাঁদ আমাদের’ মন্তব্যটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিলেও এর মাধ্যমে চাঁদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আনুষ্ঠানিক মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বিদ্যমান আন্তর্জাতিক মহাকাশ আইন অনুযায়ী, কোনো দেশ একতরফাভাবে চাঁদকে নিজের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করার সুযোগ রাখে না।
মন্তব্য করুন