নাজমুল হাসান নিরব, ফরিদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:১৬ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

গোয়ালঘরে বসবাস করা সোহেল-ঝর্ণার পাশে প্রশাসন, ঘর-দোকান নির্মাণ শুরু

অন্যের গরুর গোয়ালঘরই ছিল তাঁদের বসতঘর। সেখানেই স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছিলেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর গ্রামের সোহেল ও ঝর্ণা দম্পতি। অসুস্থতা, দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তায় থাকা এই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তাঁদের জন্য বসতঘর ও একটি দোকান নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দোকানের প্রয়োজনীয় মালামালেরও ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে আটঘর গ্রামে সোহেল-ঝর্ণা দম্পতির ঘর ও দোকান নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিন।

এ সময় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম, আটঘর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুর রহমান খান, সালথা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রাজিয়া বেগম ও জয়নাল মুন্সীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় ওহাব মাতুব্বরের গরু রাখার জন্য নির্মিত ছোট একটি ঘরই ছিল সোহেল-ঝর্ণা দম্পতির পরিবারের একমাত্র আশ্রয়। স্যাঁতসেঁতে ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুই সন্তানকে নিয়ে সেখানেই বসবাস করতেন তাঁরা। ঘরটি এতটাই ছোট ছিল যে স্বাভাবিক জীবনযাপন করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল।

শারীরিকভাবে অসুস্থ সোহেল নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। তাঁর স্ত্রী ঝর্ণাও দীর্ঘদিন ধরে দুই কিডনি নষ্ট হয়ে অসুস্থ। একসময় ভিক্ষা করে সংসারে সামান্য সহযোগিতা করলেও অসুস্থতার কারণে এখন সেটিও করতে পারছেন না। ফলে খাবার, চিকিৎসা ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছিল পরিবারটির।

দারিদ্র্যের প্রভাব পড়েছে সন্তানদের পড়াশোনাতেও। ১৩ বছর বয়সী বড় ছেলে সংসারের অভাবের কারণে স্কুল ছেড়ে স্থানীয় একটি দোকানে কাজ করছে। অন্যদিকে সাত বছর বয়সী ছোট ছেলে প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

পরিবারটির দুরবস্থার খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেলে তাঁদের বাড়িতে যান সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দবির উদ্দিন। সরেজমিনে পরিবারের জীবনযাপনের অবস্থা দেখে তাঁদের জন্য একটি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন তিনি। একই সঙ্গে পরিবারের স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা করতে একটি দোকান নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিন বলেন, ‘পরিবারটির অবস্থা অত্যন্ত মানবেতর। তাদের মাথা গোঁজার মতো কোনো ঘর নেই, পাশাপাশি স্থায়ী আয়েরও ব্যবস্থা নেই। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘর ও দোকান নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। দোকানের মালামালেরও ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্থায়ী আশ্রয় ও আয়ের ব্যবস্থা হলে পরিবারটির জীবনযাত্রায় কিছুটা স্বস্তি ফিরবে। তারা নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রাজিয়া বেগম বলেন, ‘পরিবারটির জন্য সবার আগে একটি নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন ছিল। প্রশাসনের উদ্যোগে ঘর নির্মাণ শুরু হওয়ায় তাঁদের অন্তত নিরাপদে থাকার একটি ঠিকানা হবে।’

সালথা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সোহেল-ঝর্ণা দম্পতির মানবেতর জীবনযাপন সত্যিই দুঃখজনক। দীর্ঘদিন তাঁরা অন্যের গরুর গোয়ালঘরে বসবাস করেছেন। উপজেলা প্রশাসন তাঁদের ঘর নির্মাণের পাশাপাশি জীবিকার ব্যবস্থাও করছে—এটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদেরও এমন অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিত।’

স্থানীয়দের আশা, ঘর ও দোকান নির্মাণ শেষ হলে সোহেল-ঝর্ণা দম্পতির জীবনে স্বস্তি ফিরবে। নিরাপদ আশ্রয়ের পাশাপাশি আয়ের ব্যবস্থা হলে সন্তানদের পড়াশোনাও চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা পেরিয়ে পরিবারটি নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ পাবে।
 

মন্তব্য করুন