তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:২২ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

এই ন্যারেটিভ দিয়ে সামনে সিটি নির্বাচনে আমাকে হারিয়ে দেওয়া হবে: আসিফ

অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে অর্থ লেনদেন এবং বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান চলছে।

অভিযোগের তদন্ত নিয়ে ফেসবুক লাইভে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন আসিফ মাহমুদ। তিনি দাবি করেছেন, রাজনৈতিকভাবে ক্ষোভ মেটানো এবং তাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই এসব অভিযোগের অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

আসিফ মাহমুদের ভাষ্য, অনুসন্ধান শেষে তিনি নিরপরাধ প্রমাণিত হলেও এর মধ্যে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও জনমনে তার ভাবমূর্তির ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে এ ধরনের অভিযোগের কারণে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, অনুসন্ধানে শেষ পর্যন্ত তাকে নিরপরাধ পাওয়া গেলেও ততদিনে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। তার দাবি, গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের নিয়ে নেতিবাচক বয়ান তৈরির অংশ হিসেবেও তাকে ঘিরে এসব অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে।

আসিফ মাহমুদ আরও দাবি করেন, সরকারের আশপাশে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, রাজনৈতিকভাবে ক্ষোভ মেটানোর জন্যই তার বিরুদ্ধে এই প্রক্রিয়া চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারে থাকার সময় কয়েকজন উচ্চপর্যায়ের নেতা তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট ছিলেন এবং তাদের প্রতিশোধের কারণেই অনুসন্ধানটি চলছে।

তবে এসব বিষয়ে নিজের দাবির পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম বা নথি তিনি প্রকাশ্যে উল্লেখ করেননি।

অভিযোগসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের ধরন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আসিফ মাহমুদ। তার দাবি, অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রতিষ্ঠার চেয়ে সেগুলোকে সংবাদ কনটেন্ট হিসেবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা বেশি করা হচ্ছে।

বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, চার দেশে তার এই পরিমাণ অর্থ থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। তার দাবি, দেশের বাইরে তার এক টাকা বিনিয়োগ বা সম্পদ থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলেও তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।

নিজের জাতীয়তাবাদী অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ ছেড়ে বিদেশে গিয়ে জীবনযাপন করার চেয়ে প্রয়োজন হলে জেল খাটাকেই তিনি বেছে নেবেন।

অভিযোগে তার দুই ভগ্নিপতি ও এক ভাগ্নে জড়িত থাকার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, তার দুই ভগ্নিপতি নেই; তার একমাত্র বিবাহিত বড় বোনের একজন স্বামী রয়েছেন। আর তার ভাগ্নের বয়স আড়াই থেকে তিন বছর। এত কম বয়সী একটি শিশুকেও অর্থ পাচারের অভিযোগের মধ্যে টেনে আনা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

আসিফ মাহমুদ আরও অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সরকার সেই গণঅভ্যুত্থানের বিরোধীদের বয়ানের ভিত্তিতে তাদের দমন-পীড়নের পথে যাচ্ছে।

এ সময় জনগণকে কোনো পক্ষের বক্তব্য বা কেবল শিরোনাম দেখে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সরকার ও গণমাধ্যমের বক্তব্যও সমালোচনামূলকভাবে যাচাই করে দেখার আহ্বান জানান এনসিপির এই মুখপাত্র।

তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা বা দুদকের অনুসন্ধানের চূড়ান্ত ফল এখনো জানা যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

মন্তব্য করুন