বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ আগষ্ট, ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

প্রতারণা মামলায় নির্দোষ তানজিন তিশা, পিবিআই রিপোর্ট জমা

প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির অভিযোগে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার কোনো সত্যতা পায়নি পুলিশ। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনার তদন্ত শেষে আদালতে এ সংক্রান্ত একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। সম্প্রতি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর আলম।

মামলার বাদী ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফারযাহ সানায়া চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে পিবিআইয়ের প্রতিবেদনের ওপর চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আমি ২০২৫ সলের ২৭ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে একটি প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির অভিযোগে একটি মামলা করি। মামলার পরে বিজ্ঞ আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন। নির্দেশের পরে আমি পুলিশকে সাক্ষী, হুমকির অডিও রেকর্ডিংসহ সব প্রমাণাদি হস্তান্তর করি। কিন্তু অদৃশ্য কারণে পুলিশ কোনো কারণ উল্লেখ না করে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। আমি এ প্রতিবেদনের মাধ্যমে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। তাই আমি আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন করব।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৫ মে দাখিলকৃত এই তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতউল্লাহর আদালতে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর বিবাদী তানজিন তিশা বাদীর ফ্যাশন হাউজ থেকে একটি শাড়ি নেন। মেসেঞ্জারের কথোপকথন ও তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানায়, দুই পক্ষের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল এবং ভুল বোঝাবুঝি বা ব্যস্ততার কারণে শাড়ি হস্তান্তরে বিলম্ব হলেও তিশার শাড়িটি আত্মসাৎ বা প্রতারণার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। পরবর্তীতে তিশা ডাকযোগে শাড়িটি বাদীর ঠিকানায় ফেরত পাঠায় এবং বার্তায় বাদীর সুন্দর জীবন কামনা করায় হুমকি প্রদানের অভিযোগেরও কোনো দালিলিক সত্যতা পাওয়া যায়নি। সামগ্রিক সাক্ষ্য-প্রমাণ বিবেচনায় তিশার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছিল, ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের শাড়ি নিয়ে ফেরত না দেওয়া, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং বিভিন্ন সময়ে প্রাণনাশের হুমকিসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেয় প্রতিপন্ন করার ভয় দেখানো হয়। ওই ঘটনায় প্রথমে গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও পরবর্তীতে তা মামলা হিসেবে আদালতে গড়ায়।

মন্তব্য করুন