প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৬:৩০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
নেপালে পাহাড়ি ঢল ও ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানির মধ্যে এক অলৌকিক ও আশাব্যঞ্জক ঘটনা ঘটেছে। তিমুরে গ্রামে কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে দীর্ঘ তিন দিন চাপা পড়ে থাকার পর ছয় বছরের এক শিশুকন্যাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। মহাবিপর্যয়ের মাঝে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের খবর নেপাল জুড়ে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।
সম্প্রতি ভোতে কোশি নদীর পানি উপচে রসুয়া জেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হলে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়। এপিএফ (আর্মড পুলিশ ফোর্স)-এর উদ্ধারকারীরা নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি চালানোর সময় মাটির নিচ থেকে ক্ষীণ কান্নার শব্দ শুনতে পান। দ্রুত খননকাজ চালিয়ে তারা ঘন কাদা থেকে অক্ষত অবস্থায় শিশুটিকে বের করে আনেন। শিশুটির নাম মানিশা মাগার বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। উদ্ধারের পর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে একদিন পর শনিবার হেলিকপ্টারে করে তাকে কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে সে বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ উদ্ধারের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সশস্ত্র পুলিশের উদ্ধারকারী দলের অদম্য প্রচেষ্টাকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন নেটিজেনরা। কর্তৃপক্ষ এখন মানিশার স্বজনদের খুঁজে পেতে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করছে।
এদিকে, টানা বন্যা ও ভূমিধসে নেপালজুড়ে এক চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৭৫২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনো আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহতা তুলে ধরে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল শনিবার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত দেশের পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনে কয়েক শত কোটি ডলার (বিলিয়ন ডলারে) প্রয়োজন হবে। দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে দেশটির সরকার পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহায়তার হাত বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন