প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৬:৪০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
সেপ্টেম্বর এলেই প্রযুক্তিপ্রেমীদের নজর থাকে অ্যাপলের নতুন আইফোন উন্মোচনের দিকে। চলতি বছরও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের বিশেষ আয়োজনে নতুন আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের পাশাপাশি অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
তবে ফোল্ডেবল ফোনের বাইরে অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের দুই শীর্ষ ফ্ল্যাগশিপ, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স এবং গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রা, নিয়েও প্রযুক্তি অঙ্গনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।
প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন গুঞ্জন ও ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স আগামী ৯ সেপ্টেম্বর উন্মোচিত হতে পারে। এর ২৫৬ জিবি সংস্করণের সম্ভাব্য দাম ধরা হচ্ছে ১ হাজার ২৯৯ ডলার। ৫১২ জিবি মডেলের দাম হতে পারে ১ হাজার ৪৯৯ ডলার, ১ টেরাবাইট ১ হাজার ৬৯৯ ডলার এবং ২ টেরাবাইট সংস্করণ ২ হাজার ৯৯ ডলার।
অন্যদিকে, স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রার ২৫৬ জিবি মডেলের প্রাথমিক দাম ছিল ১ হাজার ২৯৯ ডলার। ৫১২ জিবি সংস্করণ ১ হাজার ৪৪৯ ডলার এবং ১ টেরাবাইট মডেলের দাম ছিল ১ হাজার ৭৯৯ ডলার।
অর্থাৎ, প্রাথমিক দামের হিসাবে দুই ফোনই প্রায় একই পর্যায়ের প্রিমিয়াম বাজারে অবস্থান করছে।
আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে ৬.৯ ইঞ্চির OLED ডিসপ্লে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে ১ থেকে ১২০ হার্টজ পর্যন্ত Pro-Motion রিফ্রেশ রেট এবং প্রায় ২,৮৬৮ × ১,৩২০ পিক্সেল রেজল্যুশন থাকতে পারে। পাশাপাশি, আগের মডেলের তুলনায় Dynamic Island প্রায় ৩৫ শতাংশ ছোট হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
বড় ব্যাটারি ব্যবহারের কারণে ফোনটির পুরুত্ব প্রায় ০.২৫ মিলিমিটার বাড়তে পারে এবং ওজনও প্রায় ৭ গ্রাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রাতেও রয়েছে ৬.৯ ইঞ্চির OLED ডিসপ্লে এবং ১২০ হার্টজ অ্যাডাপটিভ রিফ্রেশ রেট। তবে এর সর্বোচ্চ রেজল্যুশন ৩,১২০ × ১,৪৪০ পিক্সেল এবং পিক্সেল ঘনত্ব ৫০৫ পিপিআই।
স্যামসাংয়ের ফোনে থাকা প্রাইভেসি ডিসপ্লে একটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা। এই ফিচার চালু করলে পাশ থেকে অন্য ব্যক্তির জন্য স্ক্রিনের তথ্য দেখা কঠিন হয়ে যায়। নির্দিষ্ট অ্যাপ অনুযায়ী ফিচারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেও চালু করা যায়।
এ ছাড়া গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রায় বিল্ট-ইন এস পেন রয়েছে, যা নোট নেওয়া বা আঁকার ক্ষেত্রে আইফোনের তুলনায় বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রায় রয়েছে Snapdragon 8 Elite Gen 5 for Galaxy চিপ এবং সংস্করণভেদে ১২ বা ১৬ জিবি র্যাম। দীর্ঘ সময় ভারী কাজ করার সময় তাপ নিয়ন্ত্রণে ফোনটিতে ভ্যাপর চেম্বারও ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে আসতে পারে নতুন A20 Pro চিপ। গুঞ্জন অনুযায়ী, এটি ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি হতে পারে। এতে আগের প্রজন্মের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি পারফরম্যান্স এবং ৩০ শতাংশ বেশি পাওয়ার দক্ষতা পাওয়া যেতে পারে।
এই হিসাব বাস্তবে ঠিক হলে পারফরম্যান্সের দিক থেকে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্যাটারি সক্ষমতার দিক থেকেও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে বড় আপগ্রেড আসার গুঞ্জন রয়েছে। সিম ট্রে থাকা সংস্করণে প্রায় ৫,৪৯১ mAh এবং eSIM সংস্করণে ৫,৫৬৭ mAh ব্যাটারি থাকতে পারে।
অন্যদিকে, গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রায় রয়েছে ৫,০০০ mAh ব্যাটারি।
আগের পরীক্ষায় আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স প্রায় ১৭ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট এবং গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রা প্রায় ১৬ ঘণ্টা ১০ মিনিট ব্যাটারি ব্যাকআপ দিয়েছে। নতুন চিপ ও বড় ব্যাটারির কারণে পরবর্তী আইফোনে এই ব্যবধান আরও বাড়তে পারে।
ক্যামেরা বিভাগে কাগজে-কলমে স্যামসাং এগিয়ে। গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রায় রয়েছে ২০০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা, ৫০ মেগাপিক্সেলের আলট্রাওয়াইড, ১০ মেগাপিক্সেলের ৩x টেলিফটো এবং ৫০ মেগাপিক্সেলের ৫x টেলিফটো ক্যামেরা।
অন্যদিকে, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে তিনটি ৪৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা থাকার কথা শোনা যাচ্ছে, মেইন ক্যামেরা, আলট্রাওয়াইড এবং ৪x টেলিফটো।
তবে অ্যাপলের সম্ভাব্য বড় চমক হতে পারে ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার। এর মাধ্যমে ক্যামেরায় লেন্সে প্রবেশ করা আলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। বিশেষ করে অভিজ্ঞ ফটোগ্রাফারদের জন্য ফিচারটি ছবি তোলার ক্ষেত্রে বাড়তি নিয়ন্ত্রণ দিতে পারে।
বর্তমানে গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রা বাজারের অন্যতম শক্তিশালী অ্যান্ড্রয়েড ফ্ল্যাগশিপ। উন্নত ক্যামেরা ব্যবস্থা, প্রাইভেসি ডিসপ্লে এবং এস পেন-এর মতো সুবিধা এর শক্তিশালী দিক।
তবে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স নিয়ে প্রকাশিত গুঞ্জনগুলো সত্য হলে পারফরম্যান্স, ব্যাটারি ব্যাকআপ ও পাওয়ার দক্ষতায় এটি স্যামসাংকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। ক্যামেরার হার্ডওয়্যার স্পেসিফিকেশনে পিছিয়ে থাকলেও ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার নতুন ধরনের নিয়ন্ত্রণ দিতে পারে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স সম্পর্কে এখনো পাওয়া তথ্যের বড় অংশই গুঞ্জন ও ফাঁস হওয়া তথ্যনির্ভর। তাই অ্যাপলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।
মন্তব্য করুন