তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ২৯ আগষ্ট, ২০২৬, ০৬:১০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

এআই দিয়ে আদালতের রায় লেখা অনৈতিক: প্রধান বিচারপতি

আদালতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মামলার রায় লেখা সরাসরি বেআইনি না হলেও এটি নিশ্চিতভাবেই অনৈতিক ও অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ মিলনায়তনে দেশের প্রথম ‘এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নিজের দীর্ঘ বিচারিক অভিজ্ঞতার আলোকে আলোকপাত করে প্রধান বিচারপতি বলেন, এআই দিয়ে আপনি যাই করেন আর নাই করেন রায় লিখতে পারবেন না। এটা অনুচিত। হয়তো বেআইনি নয়, কিন্তু নিশ্চিতভাবেই যথাযথ নয় এবং অনৈতিক। কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, একটি পূর্ণাঙ্গ রায় লিখতে মূলত তিনটি প্রধান উপাদানের প্রয়োজন—ঘটনার সত্যতা (ফ্যাক্ট), আইন এবং নিজস্ব বিবেক বা নৈতিকতা। এই বিবেক কিন্তু আপনি এআই দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। এটা আপনার চিন্তাশক্তি। মানুষ যখন চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলবে, আমি মনে করি তখন সে অনেক ছোট হয়ে যাবে।

বিচারালয়ে বিচারকদের নিজস্ব প্রজ্ঞা ও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কীভাবে এআই ব্যবহার করা উচিত তা সম্যকভাবে জানতে হবে, তবে রায় লেখার কাজ পরিচালনায় বিচারকদের নিজস্ব বুদ্ধি-বিবেক ও আইনের সঠিক প্রয়োগ ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে এআই-এর সরবরাহকৃত তথ্য ও উপাত্ত যাচাই করার ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট আইনি নীতিমালা তৈরির ওপর তাগিদ দেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুল তথ্যের ঝুঁকি ও নেতিবাচক দিক বোঝাতে বিদেশে ঘটে যাওয়া একটি মামলার উদাহরণ টেনে প্রধান বিচারপতি বলেন, এআই ব্যবহার করে উপস্থাপন করা কেস রেফারেন্স আমলে নিয়ে বিচারপতি পক্ষে রায় দিলেন এবং এই রায়টা তিন-চারটা কোর্ট অনুসরণ করল। কিছু দিন পরে গবেষণা করে দেখা গেল, এই ধরনের কোনো মামলার অস্তিত্ব নেই। বিচারপতিরা খুব বিব্রত বোধ করলেন, কিন্তু রায় তো দেওয়া হয়ে গেছে! এআইয়ের ঝুঁকি হচ্ছে, তথ্য যাচাই না করে ব্যবহার করা খুব কঠিন।

প্রযুক্তির বৈপ্লবিক এই পরিবর্তনের ইতিবাচক দিককে স্বাগত জানানোর কথা উল্লেখ করে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ভুলে গেলে চলবে না দেশ বা সমাজ, রাষ্ট্র বা সংবিধান কার জন্য—মানুষের জন্য। মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার, কাজের অধিকার ও সম্পত্তির অধিকারের মতো মৌলিক বিষয়গুলো সংবিধানে সংরক্ষিত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে বলেন, আমি এআই (ব্যবহার) এমনভাবে করব না, যেন এআই (ব্যবহার) করতে গেলে মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব হয়ে যায়, তাহলে কিন্তু এটা অসাংবিধানিক হয়ে যাবে। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা নিয়ে উৎসাহিত হওয়ার পাশাপাশি এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সবাইকে সচেতন থাকার তাগিদ দেন তিনি।

মন্তব্য করুন