প্রকাশিত: ৩৫ মিনিট আগে, ১০:৫৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
হিমালয়ের নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু নেপাল অংশেই ৫৭৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে চীনের তিব্বত অংশে এ পর্যন্ত পাঁচজনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুই দেশ মিলিয়ে এখনো প্রায় ২ হাজার ৪৮২ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাহাড়ি এ অঞ্চলে এখন পর্যন্ত ৫৭৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং ১ হাজার ৯২৪ জন অধিবাসী এখনো নিখোঁজ। তিব্বত অংশে পাঁচজনের মৃত্যুর পাশাপাশি ৫৫৮ জন তলিয়ে গেছেন। গত বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে একটি বিশাল হিমবাহ ধসের পর তীব্র বেগে পানির স্রোত নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে পাহাড়ি ঢলে নদীর তীরবর্তী এলাকা, সড়ক, সেতু, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ভেসে যায়। একই সঙ্গে চীন ও নেপালের প্রধান সীমান্ত বাণিজ্যকেন্দ্র ‘গিরং’ চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে।
দুর্যোগের ফলে পাহাড়ি ধ্বংসাবশেষ জমে নতুন একটি কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। সেখান থেকে পানি উপচে পড়ে নতুন করে প্লাবনের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় মাঝে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। পরিস্থিতি সামলে পরবর্তীতে পুনরায় নেপাল ও চীনের উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে। তবে দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং নতুন করে বন্যার শঙ্কা উদ্ধারকাজকে বেশ কঠিন করে তুলেছে।
মান্বিক সংস্থাগুলোর হিসেব অনুযায়ী, দুই দেশ মিলিয়ে এ দুর্যোগে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি দুর্গত মানুষদের মাঝে জরুরি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহের কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন