বুধবার   ২৫ মে ২০২২   জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪২৯   ২৩ শাওয়াল ১৪৪৩

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৩১২

শারীরিক অসুস্থতা ও গুনাহ মাফের আমল

ইসলাম ডেস্ক  

প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২  

শারীরিক সুস্থতা ও গুনাহমুক্ত জীবন আল্লাহর নেয়ামতসমূহের অন্যতম। প্রতিটি মানুষই এমন জীবন কামনা করে। এমন কাউকে পাওয়া যাবে না; যারা এ জীবন চায় না বরং সব মানুষের একমাত্র চাওয়া এবং পাওয়া হলে দুনিয়ার সুস্থতা, স্বচ্ছলতা এবং পরকালের সফলতা। আর এ জন্য প্রয়োজন শারীরিক সুস্থতা ও গুনাহমুক্ত জীবন-যাপন। ছোট্ট একটি আমলেই মানুষ সহজে গুনাহমুক্ত জীবন ও সুস্থ থাকতে পারে। কী সেই আমল?

‘হ্যাঁ’ এমন অনেক আমল রয়েছে, যে আমলগুলো মানুষকে শারীরিক সুস্থত ও নিরাপত্তার পাশাপাশি আত্মিক পবিত্রতা ও গুনাহমুক্ত জীবনের দিকে ধাবিত করে। তান্মধ্যে অন্যতম একটি আমল হলো- ‘পরিপূর্ণভাবে অজু করা।’ অজুর এ আমল মানুষকে সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুর মতো নিষ্পাপ করে দেয়।


গুনাহমুক্ত, সুস্বাস্থ্য এবং সুস্থ জীবন পেতে হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী অজুর আমলের বিকল্প নেই।  কারণ একজন মুমিন ব্যক্তি ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় হোক- প্রতিদিন ৫ বার নামাজের জন্য অজু করেন। এটি ইসলামের দিকনির্দেশনা। এ কথা নিশ্চিত করেই বলা যায়, কেউ যদি ন্যূনতম ৫ বার অজু করে তবে সে শারীরিক প্রবিত্রতা ও অসুস্থতার ঝুঁকি থেকে নিরাপদ থাকতে অনেকাংশেই মুক্ত। এমনকি মহামারি করোনা মুক্তিতেও বার বার অজু করার জরুরি।

আবার এ অজুর আমলের মাধ্যমেই পরিচ্ছন্ন জীবন পাওয়ার সুসংবাদ দিয়েছেন নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। যারা পরিপূর্ণভাবে অজু করে তারাই লাভ করে সদ্য জন্ম নেওয়ার শিশুর মতো নিষ্পাপ। হাদিসের একাধিক বর্ণনায় তা প্রমাণিত। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

১. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা দিয়েছেন- ‘যখনই কোনো মুসলিম পরিপূর্ণরূপে অজু করে নামাজ আদায় করতে দাঁড়ায় আর (নামাজে দাঁড়িয়ে) যা বলছে, তা জেনে বুঝে মনোযোগ সহকারে আদায় করে, সে সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুর মতোই নিষ্পাপ হয়ে নামাজ সম্পন্ন করে।’ (তাবারানি, তারগীব)

২. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন, ‘তোমাদের কোনো ব্যক্তি যখন অজুর পানি নিয়ে কুলি করে, নাকে পানি দেয় এবং তা পরিষ্কার করে, তখন তার মুখের ভেতরের ও নাকের সব গুনাহ ঝরে যায়। তারপর যখন সে আল্লাহ পাকের নির্দেশ অনুসারে মুখমণ্ডল ধোয়, তখন মুখমণ্ডলের চারদিকের সব গুনাহ পানির সঙ্গে ঝরে যা।


তারপর যখন দুই হাত কনুইসহ ধোয়, তখন তার উভয় হাতের গুনাহসমূ আঙুল বেয়ে পানি সঙ্গে ঝরে যায়। এরপর উভয় পা গোড়ালি পর্যন্ত ধোয় তখন উভয় পায়ের আঙুল বেয়ে গুনাহগুলো ঝরে যায়। এরপর যদি সে দাঁড়িয়ে যথাযথভাবে নামাজ আদায় করে, আল্লাহর প্রশংসা করে ও স্তুতি বর্ণনা করে এবং তার অন্তর আল্লাহর জন্য একাগ্র করে নেয়; তবে সে গুনাহ থেকে এমনভাবে মুক্ত হয়ে যাবে যেন তার মা তাকে এখনই প্রসব করেছেন।’ (মুসলিম)

৩. হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'যখন কোনো মুমিন বান্দা অজু করে এবং মুখ ধোয়, তার মুখের গুনাহ পানির সঙ্গে ধুয়ে যায়। যখন কোনো বান্দা হাত ধোয়, তার হাতের গুনাহ পানির সঙ্গে ধুয়ে যায়। এমনিভাবে যখন অজু শেষ করেন তখন ওই ব্যক্তি বেগুনাহ মাসুম হয়ে যায়।' (তিরমিজি)

কোরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্রতা অর্জনের নির্দেশনাও দিয়েছেন এভাবে-

‘হে মুমিনগণ! যখন তোমরা নামাজের জন্য দাঁড়াবে তখন তোমরা তোমাদের পুরো মুখ, উভয় হাত কনুইসহ ধুয়ে নাও এবং তোমাদের মাথা মসেহ কর এবং দুই পা টাখনু পর্যন্ত ধোও। যদি তোমরা অপবিত্র হও তবে সারা দেহ পবিত্র করে নাও এবং যদি তোমরা রুগ্ন হও, অথবা প্রবাসে থাক অথবা তোমাদের কেউ প্রসাব-পায় খানা সেরে আসে অথবা তোমরা স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর, অতঃপর পানি না পাও, তবে তোমরা পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও-অর্থাৎ, স্বীয় মুখ-মন্ডল ও হস্তদ্বয় মাটি দ্বারা মুছে ফেল। আল্লাহ তোমাদেরকে অসুবিধায় ফেলতে চান না; কিন্তু তোমাদেরকে পবিত্র রাখতে চান এবং তোমাদের প্রতি স্বীয় নেয়ামত পূর্ণ করতে চান-যাতে তোমরা কৃতজ্ঞাতা প্রকাশ কর।’ (সুরা মায়িদাহ : আয়াত ৬)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, যথাযথভাবে অজু করার মাধ্যমে সব সময় পবিত্র থাকার চেষ্টা করা। অজুর মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে সুস্থ থাকার চেষ্টা করা। হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি আত্মিক পবিত্রতা ও নিষ্পাপ হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সুবর্ণ সুযোগও অজু।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নিয়মিত অজুর আমল যথাযথভাবে করার তাওফিক দান করুন। অজু করার পর হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী অন্যান্য আমলগুলো যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। শারীরিক সুস্থতা ও গুনাহমুক্ত জীবন পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।