বুধবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০   আশ্বিন ১৪ ১৪২৭   ১১ সফর ১৪৪২

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১০৮

পদোন্নতি পেয়ে রামগড় ছাড়ছেন জনপ্রিয় ইউএনও আ. ন. ম বদরুদ্দোজা

তরুণ কণ্ঠ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৬ আগস্ট ২০২০  

দায়িত্ব নেয়ার পাঁচ মাসের মাথায় রামগড়বাসীর মন জয় করে বিদায় নিচ্ছেন রামগড় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ. ন. ম. বদরুদ্দোজা। তবে এই বিদায় ইউএনও’র জন্য আনন্দের হলেও সাধারন মানুষকে করেছে ব্যথিত। তিনি পদোন্নতি পেয়ে বদলিজনিত কারণে রামগড় ছাড়তে হচ্ছে। যাচ্ছেন কক্সবাজার এর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসাবে।

তিনি রামগড়ে যোগদান করার পরপরই বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব দেখা দেয়। করোনা কালীন সময়ে নিজের জীবন ঝুঁকি রেখে সব সময় সাধারণ জনগণের সেবায় নিয়োজিত থেকে নিজের সৃষ্টিশীল কাজের মাধ্যমে এরই মধ্যে তিনি উপজেলা বাসীর মন জয় করেছেন ।

তিনি মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করেছেন খুবই সহজে। মিশেছেন সকল স্তরের মানুষের সাথে। করোনাকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার পৌঁছে দিয়েছেন প্রকৃত অসহায় মানুষের কাছে। ত্রাণের প্যাকেট তৈরী থেকে বন্টন পর্যন্ত নিজেকে রেখেছেন সম্পৃক্ত। প্রকৃত অসহায় মানুষদের হাতে তুলে দিয়েছেন রিক্সা ভ্যান গাড়ী ও নগদ অর্থ। যোগদানের পরপরই নিজের কার্যালয়কে সাজিয়েছেন আধুনিক ইন্টোরিয়র ডিজাইনের সমন্বয়ে। অফিস প্রাঙ্গনে লাগিয়েছেন রং বেরংয়ের বাতি। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা অনুযায়ী প্রতিটি অনাবাদি জায়গাকে আবাদি করার প্রত্যয়ে তিনি সমিতি গঠন করে রামগড়ের তৈছালা এলাকায় ১৩ একর টিলা ভূমি লিজ নিয়ে গড়ে তুলছেন ফলজ বাগান। এর মধ্যে দিয়ে করেছেন কিছু খেটে খাওয়া মানুষের কর্মসংস্থান। তাঁর উদ্যোগে উৎসাহিত হয়ে অনেকে এগিয়ে আসছেন অনাবাদি জমিকে আবাদিতে পরিনত করতে। রামগড় লেকের পাড়ে দৃষ্টিনন্দন লেকভিউ ফুডল্যান্ড বন্ধ থাকার পর আবারও চালু করেন। তিনি রামগড়বাসীর দু:খ অনুভব করে দুইটি ইউনিয়নকে বাড়িয়ে তিনটি ইউনিয়ন করার কাজও শুরু করেছিলেন।

জন্মলগ্ন থেকে অন্ধ শতি চন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, জীবনে কোনদিনই ভাবিনি একটি রিক্সা ভ্যান গাড়ী পাবো। ভিক্ষা করে জীবন কাটাই। স্যার ডেকে নিয়ে ভ্যানটি দেয়ায় ভাড়া দিয়ে অন্তত খেতে পারবো।

রামগড় পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি রফিকুল আলম কামাল বলেন, করোনায় ঝুঁকি নিয়ে যেভাবে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তা বিরল। অল্প সময়ে প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে রামগড় পর্যটন লেকটিতে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করে রামগড়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছেন। মোটকথা তিনি অল্পসময়ে মানুষের দৌড়গোড়ায় পৌঁছাতে পেরেছেন।

রামগড় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো: শাহআলম বলেন, করোনাকালীন সল্প সময়ে উন্নয়নমুখী চিন্তা ভাবনা ও জনবান্ধব প্রশাসনিক ব্যবস্থা সত্যি প্রশংসার যোগ্য।

পদোন্নতি নিয়ে বদলি হয়ে চলে যাওয়ার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ.ন.ম. বদরুদ্দোজা’র অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকাগার ঐতিহাসিক স্থান রামগড়কে অতি অল্প সময়ে ভালবেসে ফেলেছি। আমি এই জায়গায় একজন ইউএনও হিসাবে কাজ করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। রামগড়ের মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকসহ সকলেই অনেক ভালো। তারা সকলেই আমাকে সবসময় সহযোগিতা করে এসেছেন। এখানে চাকরি করতে এসে এখানকার মানুষের জন্য আমার মনে অন্য ধরনের একটি মায়া জন্মে গেছে। সকলকে ছেড়ে, রামগড়কে ছেড়ে চলে যেতে আমারও খারাপ লাগছে। পদায়নের কারনে সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী আমাকে যেতে হবে। সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন।

এই বিভাগের আরো খবর