প্রকাশিত: ৫৭ মিনিট আগে, ০৩:৫১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ভারতের উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌয়ে ক্যাফে মালিক শিবা শর্মার মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার মডেল শ্রদ্ধা দুবে এখন গোসাইগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি। কারা সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁকে তাঁর বোন রশ্মি দুবেসহ ৪৫ নারী বন্দির সঙ্গে একই কক্ষে রাখা হয়েছে। কারাগারে যাওয়ার পর থেকে শ্রদ্ধা ঠিকমতো খাচ্ছেন না এবং অন্য বন্দিদের সঙ্গেও খুব কম কথা বলছেন।
গত ৯ অক্টোবর লক্ষ্ণৌয়ের হজরতগঞ্জ এলাকার আওধ গ্রিন অ্যাপার্টমেন্টের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে মারা যান ক্যাফে ব্যবসায়ী শিবা শর্মা। শ্রদ্ধা দুবের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। শিবার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি হত্যার মামলা হিসেবে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তবে শ্রদ্ধা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, শিবা আত্মহত্যা করেছেন।
গত ২০ অক্টোবর মহারাষ্ট্রের নাগপুর থেকে শ্রদ্ধা, তাঁর বোন রশ্মি এবং তাঁদের গাড়িচালককে গ্রেপ্তার করে লক্ষ্ণৌ পুলিশ, উত্তর প্রদেশের বিশেষ বাহিনী ও নাগপুর পুলিশের যৌথ দল। পরে আদালত তাঁদের ১০ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠান।
পালিয়ে থাকার সময় আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ
শিবা শর্মার মৃত্যুর পর শ্রদ্ধা ও তাঁর সঙ্গীদের পালিয়ে থাকতে সহায়তা করেছে—এমন ব্যক্তিদের খুঁজছে পুলিশ। এ ঘটনায় শ্রদ্ধার প্রেমিক আমির শেখের নাম সামনে এসেছে বলে মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আমির ও তাঁর সহযোগীরা শ্রদ্ধা, রশ্মি ও গাড়িচালককে কানপুর, নাগপুর এবং নেপালে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অন্য সহযোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের আগে অভিযুক্তরা নেপালে গিয়েছিলেন। পরে ভারতে ফিরে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন। শেষ পর্যন্ত নাগপুরের একটি বাসা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
কারা সূত্রের বরাতে মূল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাগারে নেওয়ার পর প্রথমে শ্রদ্ধা ও রশ্মিকে পৃথক কক্ষে রাখা হয়েছিল। পরে তাঁদের অন্য বন্দিদের সঙ্গে রাখা হয়। কারাগারে যাওয়ার পর থেকে দুই বোন বেশির ভাগ সময় চুপচাপ থাকছেন এবং অন্য বন্দিদের সঙ্গে খুব একটা কথা বলছেন না।
প্রথম রাতে শ্রদ্ধাকে রুটি, ডাল, আলু-সয়াবিন ও মেথি শাকের তরকারি দেওয়া হলেও তিনি খেতে চাননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাতে দীর্ঘ সময় জেগে থাকার পর ভোর ৬টার দিকে অন্য বন্দিদের সঙ্গে তাঁকেও ঘুম থেকে উঠতে হয়। কারা কর্তৃপক্ষ তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি রাখছে বলেও মূল প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন