নজরুল ইসলাম,গাজীপুর

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৩:৪৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

গাজীপুরে মাদ্রাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে অপহরণের অভিযোগ, থানায় মামলা

গাজীপুরের টঙ্গীতে ৮বছর বছর বয়সী শিশুকে যৌন নির্যাতনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার জেলার সদর উপজেলায় এক মাদ্রাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পিতা ৫ জনকে আসামী করে থানায় মামলা একটি দায়ের করেছেন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করেন ওই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর বাবা।

মামলায় গাজীপুর সদর উপজেলার বিকেবাড়ি সিকদার মার্কেট সংলগ্ন দারুল মা’আরিফ হোসাইনিয়া (কওমী) মাদরাসা ও মারকাযুল কুরআন আদর্শ মহিলা মাদরাসা’র পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম (২৯) কে প্রধান আসামী করা হয়েছে। মামলায় অন্যান্য আসামীরা হলেন, আরিফুল ইসলামের ভাই বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ি এলাকার ফারুক হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া শরীফ মিয়া (৩৫), বাবা সেলিম মিয়া (৫৫), মা রহিমা খাতুন (৪০) ও পিরুজালী বর্তাপাড়া এলাকার জাফরের বাড়ির ভাড়াটিয়া দেলোয়ার হোসেন (৪৫)। তাদের সকলের বাড়ি ময়মনসিহের সদর থানার চর বওলা গ্রামে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মারকাযুল কুরআন আদর্শ মহিলা মাদরাসা’র ৮শ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ছিল। ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম ওই ছাত্রীকে প্রেম প্রস্তাবসহ নানা বিষয়ে উত্যক্ত করে আসছিল। ছাত্রী প্রেম প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে জোর পূর্বক অপহরণের হুমকি দিতে থাকে। বিষয়টি ছাত্রী তার পরিবারকে জানালে মেয়েকে সাবধানে চলাচল করার পরামর্শসহ শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে এধরণের কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই মাদ্রাসা শিক্ষক বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি ও হুমকি অব্যাহত রাখে। এর প্রেক্ষিত্রে গত ১০ অক্টোবর সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার পর শিক্ষক আরিফুল ইসলাম তার ভাই শরীফ মিয়া, বাবা সেলিম মিয়া, মা রহিমা খাতুন ও দেলোয়ার হোসেনের সহযোগিতায় অপহরণ করে নিয়ে যায়। বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে জানার পর তার বাবা বিভিন্ন  জায়গাতে খোঁজাখুঁজি করে মেয়েকে উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে। 

এবিষয়ে জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন জানান, শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।

 

মন্তব্য করুন