মোঃ নাজমুল হুদা

প্রকাশিত: ৪ ঘন্টা আগে, ০৩:৫৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনে লড়ার অধিকার রয়েছে, দাবি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতারণা করে জয়ী হয়েছে। এ কারণে আবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী, কেউ দুইবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তৃতীয়বার নির্বাচিত হতে পারেন না।

আইওয়া অঙ্গরাজ্যের সিউক্স সিটিতে স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার এক সমাবেশে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। সংবিধানে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ না থাকলেও তিনি বিভিন্ন সময়ে আবারও নির্বাচনে লড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনাদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হবেন, তা আমি জানি না। আমার মনে হয়, আইন বলেছে, যদিও আমি শতভাগ নিশ্চিত নই, তবে মনে হয় আইন অনুযায়ী আমার আর নির্বাচনে দাঁড়ানোর অনুমতি নেই।’

এরপর ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২২তম সংশোধনীর কথা স্বীকার করেন। তবে একই সঙ্গে ২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা তাঁর কাছ থেকে জয় ‘চুরি’ করেছে বলে পুরোনো দাবি আবারও তুলে ধরেন। ওই নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগের পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

হাসতে হাসতে ট্রাম্প বলেন, ‘তবে একটি বিষয় আলাদা। দ্বিতীয়বার তারা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। কারণ, আমরা তিনবার জিতেছি। তাই আমার মনে হয়, আবারও নির্বাচনে লড়ার অধিকার আমার আছে।’

এরপর মুচকি হেসে তিনি বলেন, ‘তারা প্রতারণা করেছে বলেই আমার মনে হয়, আবারও নির্বাচনে লড়ার অধিকার আমার রয়েছে।’ তাঁর বক্তব্যের পর সমাবেশে উপস্থিত লোকজন করতালি দেন।

ট্রাম্প নিয়মিতই আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইঙ্গিত দিয়ে আসছেন। তবে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২২তম সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।

২০২৫ সালের অক্টোবরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছিলেন, তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হতে পারলে তিনি ‘খুবই খুশি’ হবেন। একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে টেক্সাসের এক সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘হয়তো আমাদের আরও একটি মেয়াদ থাকা উচিত।’ তখনও তিনি আরও এক মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকার অধিকার রয়েছে বলে দাবি করেন।

গত বছর ট্রাম্পের নিজস্ব দোকানে ‘ট্রাম্প ২০২৮’ লেখা টুপি বিক্রি শুরু হয়। এমনকি জুলাইয়ে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারেও ওই টুপি পরেছিলেন তিনি। তবে তাঁর মিত্ররা এসব বক্তব্যকে নিছক রসিকতা হিসেবে দেখছেন।

প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন গত বছর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার দাবি তুলে ট্রাম্প ‘ডেমোক্র্যাটদের খেপিয়ে মজা পান’। সংবিধান সংশোধন করে ট্রাম্পকে আবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেওয়ার কোনো পথ তিনি দেখছেন না বলেও জানান জনসন।

তবে ট্রাম্পের বিরোধীরা আশঙ্কা করছেন, তিনি হয়তো বিষয়টি নিয়ে সত্যিই সিরিয়াস। ট্রাম্প নিজেও সংবিধানের বিধিনিষেধ সম্পর্কে অবগত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

বৃহস্পতিবার রাতের সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আমি ওই বাক্যটি অনেক দিন ধরে পড়েছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এটি বেশ সংক্ষিপ্ত। এখানে ব্যাখ্যার সুযোগ খুব বেশি নেই। এতে বলা হয়েছে, কোনো পরিস্থিতিতেই বা কোনো কারণেই আপনি যদি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে থাকেন, তাহলে আবারও নির্বাচনে লড়ার কথা বিবেচনা করার কথাও ভাবতে পারবেন না—এ ধরনের কিছু।’

ট্রাম্প আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের আরও বেশি আসনে জেতাতে সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তাঁর এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এরই মধ্যে তাঁর প্রতি জনসমর্থনের হার নতুন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

মন্তব্য করুন