আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ১০:০২ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ইউরেনিয়াম হস্তান্তর নিয়ে ট্রাম্প ও ইরানের পরস্পরবিরোধী অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর নিয়ে চরম উত্তেজনা ও বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে। দুই পক্ষই ভিন্ন ভিন্ন দাবি তুললেও পর্দার আড়ালে বড় ধরনের চুক্তির আলাপ চলছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

ট্রাম্পের দাবি: ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ ফিরবে যুক্তরাষ্ট্রে

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (যাকে তিনি ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ বলে অভিহিত করেছেন) যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিতে রাজি হয়েছে। গত শুক্রবার ফিনিক্সে এক বক্তব্যে তিনি বলেন:

  • কোনো মার্কিন সেনা মোতায়েন ছাড়াই ইরান থেকে এই ইউরেনিয়াম সরিয়ে আনা হবে।

  • এটি একটি শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হবে।

  • ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইরান মূলত সব শর্তে রাজি হয়ে গেছে এবং আলোচনার মাধ্যমেই এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

ইরানের কড়া প্রতিবাদ: ‘মাটির মতোই পবিত্র’ ইউরেনিয়াম

ট্রাম্পের এই দাবিকে সরাসরি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন:

“ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনোভাবেই কোথাও হস্তান্তর করা হবে না। ইরানি ভূমি যেমন আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র, এই বিষয়টিও আমাদের কাছে ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।”

বাগাই আরও স্পষ্ট করেছেন যে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত (Suspension) রাখার বিষয়ে আলোচনার সম্ভাবনা তিনি পুরোপুরি নাকচ করেননি।

২ হাজার কোটি ডলারের গোপন প্যাকেজ ও অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস (Axios)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পর্দার আড়ালে এক বিশাল অংকের লেনদেন নিয়ে আলোচনা চলছে:

  • ফান্ড আনফ্রিজিং: ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তরের বিনিময়ে ইরানের জব্দ হওয়া ২ হাজার কোটি ডলার (২০ বিলিয়ন ডলার) সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

  • সমঝোতার পথ: একটি প্রস্তাবিত ‘কম্প্রোমাইজ’ অনুযায়ী, সব ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে না পাঠিয়ে একটি নিরপেক্ষ তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হতে পারে এবং বাকি অংশ ইরানের ভেতরেই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে অকেজো (Down-blend) করা হতে পারে।

  • মোরাটোরিয়াম: ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কতদিন বন্ধ থাকবে তা নিয়ে বিরোধ চলছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ২০ বছর, আর ইরান প্রস্তাব করেছে ৫ বছর।

বর্তমান পরিস্থিতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ

বর্তমানে পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশরের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনার প্রক্রিয়া সচল রয়েছে। আগামী রবিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন যে, কোনো ‘সরাসরি অর্থ’ হাতবদল হবে না, যা ২০ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

মন্তব্য করুন